Saturday, 23 February 2019

কাল্পনিক গল্প বা উপন্যাস লেখা কি জায়েয বা এটা কি মিথ্যার মধ্যে গণ্য হবে?

কাল্পনিক গল্প বা উপন্যাস লেখা কি জায়েয বা এটা কি মিথ্যার মধ্যে গণ্য হবে?

প্রশ্ন: কাল্পনিক গল্প বা উপন্যাস লেখা কি জায়েয বা এটা কি মিথ্যার মধ্যে গণ্য হবে?

উত্তর:
গল্প ও উপন্যাসের বিষয়ের উপর নির্ভর করে তার ব্যাপারে হুকুম আরোপিত হবে। যদি সেগুলোতে মানুষকে ভাষাজ্ঞান, সাহিত্যচর্চা, ইসলাম পালনে উদ্বুদ্ধ করণ, দেশপ্রেম, চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন তথা মানুষের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী কিছু শিখানো হয় তাহলে তা জায়েয। এ সব গল্প তখন উদাহরণ ও উপমা হিসেবে পরিগণিত হবে।
উদাহরণ পেশ করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক ঘটনা পেশ করলে তা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত হবে না। যেমন এভাবে উদাহরণ পেশ করা যে, এক লোক এটা করেছে বা এটা বলেছে তার পরিণতিতে এটা ঘটেছে।
আল্লাহ তাআলা আল কুরআনে এমন উদাহরণ পেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا رَّجُلَيْنِ جَعَلْنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَابٍ وَحَفَفْنَاهُمَا بِنَخْلٍ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمَا زَرْعًا  “আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি....।” (সূরা কাহাফ: ৩২)

তিনি আরও বলেন:
ضَرَبَ اللَّـهُ مَثَلًا رَّجُلًا فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا
“আল্লাহ এক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন: একটি লোকের উপর পরস্পর বিরোধী কয়জন মালিক রয়েছে, আরেক ব্যক্তির প্রভু মাত্র একজন-তাদের উভয়ের অবস্থা কি সমান?” (সূরা যুমার: ২৯)
আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত দ্বয়ে উদাহরণ হিসেবে দু জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন-মানুষের শিক্ষার জন্য কিন্তু সেগুলো কোন বাস্তবিক কোন ঘটনা নয়। (আল্লামা উসাইমীন রহ. এর বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত)
পক্ষান্তরে যদি গল্প ও উপন্যাসে অশ্লীলতা, অসচ্চরিত্র, হত্যাকাণ্ড, চুরি-ডাকাতি ও মানুষের জন্য ক্ষতিকারক কিছু থাকে তাহলে তা অবশ্যই বৈধ নয়। আল্লাহু আলাম।
✒✒✒✒✒✒
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব৷

Wednesday, 20 February 2019

প্রতারণা

প্রতারণা

প্রতারনা!!
প্রতারণা

প্রতারনার শিকারa হয় না পৃথিবীতে এমন একটি মানুষ খোঁজে পাওয়া যাবেনা, যদিও সবাই সচেতনার দাবীদার।একজন বিজ্ঞ ডাক্তার প্রতারিত হন যখন তিনি বিল্ডিং বানাতে যান একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। কেননা তিনি জানেন না ইট, বালু,রট সিমেন্টের হিসেব।একজন ছাত্র তার মূল্যবান ৩০ বছর পড়াশোনা করেই টাকার পিছনে দৌড়াতে থাকে হোক সেটা সৎ অথবা অসৎ পথে,, যে কাজটা মুর্খরাও করতে পারে। অর্থাৎ সে জানেই না পড়াশোনার মূল উদ্যেশ্য শুধু ইনকাম করা নয়।এটা কার প্রতারনা? পৃথিবীতে এমন কোন প্রাণি রুপ/বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে অন্য প্রাণিতে পরিনত হয়েছে বলাটা অনেক হাস্যকর হলেও একদল শিক্ষিত নাস্তিক মেনে নিয়েছে যে, শ্রেষ্ঠ প্রাণি মানুষের উৎপত্তি নাকি বানর থেকে!! এরকম প্রতারনার গল্প শেষ হবার নয়। প্রতিনিয়ত একে অন্যের কাছে প্রতারিত হয়েই যাচ্ছি আমরা। কারণ সবাই সব বিষয়ে অভিজ্ঞ নয়।আমার লেখার উদ্যেশ্য হল সবচেয়ে বড় প্রতারনা নিয়ে, যা সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; সেটি হল ধর্ম। এখানেই প্রতারনার শিকার হচ্ছে প্রায় সকল মানুষ। খ্রিষ্টান শিক্ষিত জাতি হয়েও ধর্মগুরুদেরকে প্রশ্ন করেনা যে, ইশ্বরের বউ,ছেলে (মেরি,যিশু) থেকে থাকলে প্রজননতন্ত্র অনুযায়ী ইশ্বরের বাপ,মা, দাদা দাদি, নাতি পতি এরা কোথায়? হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে তাদের ধর্মগুরুরা,হাজারু দেব দেবি গাছ,পশুকে পুজার মাধ্যমে যা তাদের ধর্মগ্রন্থেই নেই! অবাক হবার কিছুই নেই নরেন্দ্র মোদির মত বিজ্ঞ ব্যেক্তিও এই প্রতারনার শিকার !  আমাদের ২ নেত্রীদের কে কেন তাদের পছন্দের আলেমগন বলছেন না ইসলামে নারী নেত্রীত্ব হারাম,, নারীরা কবর যিয়ারত করলে তাদের উপর রাসুলের লানত!  নেত্রী খালেদা/হাসিনা কে তাদেরই পচন্দের আলেমগন ঠকাচ্ছেন, তাদের স্বামি/বাবার কবরে ফুল দিতে মানা না করে। শাহাজালাল মাঝারে গিয়ে তাদের দ্বারা শিরক করিয়ে । জাতির শ্রেষ্ঠ আসনে বসেও তারা প্রতারিত হচ্ছেন!! দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আমাদের ইসলামের উপর ভর করেই চলতে হয়, নাম রাখা থেকে যানাজা সবই ইসলাম। অথচ এত লম্বা একটা সময় সঠিক ভাবে ব্যয় করার জন্য আমাদের ইসলামিক জ্ঞান এর আগ্রহ নেইই। কিন্তু কিছুদিন ইনকাম করার জন্য আমরা কত মেহনত করে কাজ শিখি,দেশে দেশে পাড়ি দেই। সবজি মাছ কিনতে অনেক যাচাই করি কিন্তু ইসলাম কে যাচাই করি না। সবজি ত আজ খেলে কাল নাই,
কিন্তু ইসলাম? ? ?

Tuesday, 19 February 2019

সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী

সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী

সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী
স্ত্রী,দোয়া,স্বামী,নারী বশীকরণ,বাংলা ওয়াজ,ডাক্তার,সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া,সর্বশ্রেষ্ঠ,বশীকরণের যন্ত্র,স্বাস্থ্য টিপস,প্রশ্ন ও উত্তর,বশীকরণ মন্ত্র,বশীকরণ যন্ত্র,বশীকরন যন্ত্র,আমল

কাকের একাধিক প্রকার আছে। কিছু কাক আছে বিরল, সাধারণতঃ সব দেশে দেখা যায় না। সেই কাকের উপমা দিয়ে বিরলতা প্রকাশ করা হয়। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
« خَيْرُ نِسَائِكُمُ الْوَدُودُ الْوَلُودُ الْمَوَاتِيَةُ الْمُوَاسِيَةُ إِذَا اتَّقَيْنَ اللَّهَ، وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلاَتُ وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلاَّ مِثْلُ الْغُرَابِ الأَعْصَمِ ».
“তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদে-শোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে। আর তোমাদের সবচেয়ে খারাপ মেয়ে তারা, যারা বেপর্দা, অহংকারী, তারা কপট নারী, তাদের মধ্যে লাল রঙের ঠোট ও পা-বিশিষ্ট কাকের মত (বিরল) সংখ্যক বেহেস্তে যাবে।” (বাইহাকী ১৩২৫৬নং)
এমন নারীদের ভাগ্যে তওবার সুযোগ কমই ঘটে। তাই অনুরূপ বিরল কাকের মতো বিরল সংখ্যক মুনাফিক নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে; যদি তাদের ঈমান ও আমলে তওহীদ থাকে, শির্ক না থাকে এবং বিশ্বাসগত মুনাফিকী না থাকে। এমন নারী বেপর্দা ও তারা নিজেদের দেহ বা দেহাংশ এমন পুরুষকে দেখায়, যার জন্য দেখা বৈধ নয়। দেহাঙ্গে ঠিকমতো কাপড় রাখে না। অথবা এমন কাপড় রাখে, যার উপর থেকে ভিতরের সব কিছু দেখা যায়। এমন নারী অহংকারী ও মানুষকে তুচ্ছ করে। কথা ও কর্মে গর্ব প্রকাশ করে। নিজ অলংকার-পোশাক, ঘর-বাড়ি, মায়ের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি বা স্বামী-সন্তান নিয়ে ফখর ও ফুটানি করে। বিশেষ করে নিজ ভর্তা ও কর্তা (স্বামী)কে ছোট করে। কথা ও আচরণে তাকে হেনস্থা করে। তাকে ভেড়া বানিয়ে রাখে। তার আচরণিক শ্লোগান থাকে, স্বামী আমি জানি না, পরের ছেলে মানি না।
শ্বশুরবাড়ির লোককেও কোন পরোয়া করে না। কারো কথা শোনেনা, হক গ্রহণ করে না, কারো উপদেশ মেনে নেয় না। কথায় কথায় তর্ক ও ঝগড়া করে, বড়দেরকে কোন পাত্তাই দেয় না।
আর হাদীসে এসেছে, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (মুসলিম ২৭৫নং)

এমন নারী মুনাফিকঃ আর কর্মগত মুনাফিকের গুণ হল পাঁচটি।


 (১) তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। (২) কথা বললে মিথ্যা বলে। (৩) ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে। (৪) চুক্তি করলে ভঙ্গ করে। এবং (৫) ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে। (বুখারী, মুসলিম)
এমন অহংকারী মেয়ে কথায় কথায় স্বামীর কাছে তালাক চায়। পান থেকে চুন খসতেই বলে ওঠে, ‘আমাকে তালাক দাও!’ হাদীসে এসেছে,
((الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ)).
“খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।” (আহমাদ ৯৩৫৮, নাসাঈ ৩৪৬১, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৩২নং)
আর অকারণে তালাক চায়, এমন মেয়েরা জান্নাতের নিকট থেকে ৪০, ৭০ বা ৫০০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থানে থাকবে,
মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
((أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ)).
“যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে, সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।” (আহমাদ ২২৩৭৯, আবু দাউদ ২২২৬, তিরমিযী ১ ১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫নং, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩ ১৬, সহীহুল জামে’ ২৭০৬নং)
জামাতে নামাজ পড়ার সময় কাতার সোজা করার গুরুত্ত কি ?

জামাতে নামাজ পড়ার সময় কাতার সোজা করার গুরুত্ত কি ?

জামাতে নামাজ পড়ার সময় কাতার সোজা করার গুরুত্ত কি ?
বাংলা ওয়াজ,নামাজের সঠিক নিয়ম,নামাজের কিছু ভুল,কাতার সোজা করো,নামাজের মাসয়ালা,নামাজের ভুলত্রুটি,সালাতুল তাসবিহ,বাংলা ওয়াজ ভিডিও,নামাজের ভুল সমুহ,নামাজের ভুল,হাদিস

উত্তর;-নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) নামাযে ইমামতির জায়গায় দাঁড়িয়ে মুক্তাদীদের দিকে মুখ করে তাদেরকে বিভিন্ন নির্দেশ দিতেন। (বুখারী ৭১৯নং) যেমন, “তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও।” “কাতার সোজা কর।” “কাতার পূর্ণ কর।” “ঘন হয়ে দাঁড়াও।” “সামনে এস।” “ঘাড় ও কাঁধসমূহকে সমপর্যায়ে সোজা কর।” “প্রথম কাতারকে আগে পূর্ণ কর, তারপর তার পরের কাতারকে। অপূর্ণ থাকলে যেন শেষের কাতার থাকে।” “কাতারের ফাঁক বন্ধ কর।” “বাজারের মত হৈ-চৈ করা থেকে দূরে থাক।” ইত্যাদি।
কাতারে কেউ আগে-পিছে সরে থাকলে তাকে বরাবর হতে বলা এমন কি নিজে কাছে গিয়ে কাতার সোজা করা ইমামের কর্তব্য। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না কাতার পূর্ণরুপে সোজা হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত নামায শুরু করা উচিৎ নয়। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/১৬) বরং কাতার সোজা ও ঠিক হওয়ার আগে ইমামের নামায শুরু করা বিদআত। (আল-আজবিবাতুন নাফেআহ্‌, আন আসইলাতি লাজনাতি মাসজিদিল জামেআহ্‌, মুহাদ্দিস আলবানী ৭৪পৃ:)
নু’মান বিন বাশীর (রাঃ) বলেন, ‘আমরা নামাযে দাঁড়ালে আল্লাহর রসূল (সাঃ) আমাদের কাতার সোজা করতেন। অতঃপর আমরা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলে তবেই তকবীর দিতেন।’ (বুখারী ৭১৭, মুসলিম, সহীহ ৪৩৬, আবূদাঊদ, সুনান ৬৬৫নং)

Monday, 18 February 2019

মুক্তাদীদের দিকে খেয়াল করে ঈমাম কি নামায হাল্কা করে পড়তে পারবেন?

মুক্তাদীদের দিকে খেয়াল করে ঈমাম কি নামায হাল্কা করে পড়তে পারবেন?

প্রশ্নঃ- মুক্তাদীদের দিকে খেয়াল করে ঈমাম কি নামায হাল্কা করে পড়তে পারবেন?
Namaz,imam,solat,muktadir, Bangla waz,nosihot
উত্তরঃ--জামাআতে বিভিন্ন ধরনের লোক নামায পড়ে থাকে। ইমামের উচিৎ, নিজের ইচ্ছামত নামায না পড়া; বরং তাদের খেয়াল রেখে ক্বিরাআত ইত্যাদি লম্বা করা। অবশ্য কারো ইচ্ছা অনুসারে নামায এমন হাল্কা করা উচিৎ নয়, যাতে নামাযের বিনয়, ধীরতা-স্থিরতা, পরিপূর্ণরুপে রুক্‌ন-ওয়াজেব-সুন্নত আদি আদায় ব্যাহত হয়। বলা বাহুল্য, যাতে উভয় দিক বজায় থাকে তার খেয়াল অবশ্যই রাখতে হবে।
আনাস (রাঃ) বলেন, ‘আমি নবী (সাঃ) অপেক্ষা কোন ইমামের পিছনে অধিক সংক্ষেপ অথচ অধিক পরিপূর্ণ নামায পড়ি নি। এমন কি তিনি যখন কোন শিশুর কান্না শুনতেন তখন তার মায়ের উদ্বিগ´ হওয়ার আশংকায় নামায সংক্ষেপ করতেন।’ (বুখারী ৭০৮নং, মুসলিম, সহীহ)
মহানবী (সাঃ) বলেন, “আমি অনেক সময় নামায শুরু করে তা লম্বা করতে ইচ্ছা করি। কিন্তু যখন আমি কোন শিশুর কান্না শুনি, তখন আমার নামাযকে সংক্ষেপ করি। কারণ, তার কান্নায় তার মায়ের মনের উদ্বেগ যে বেড়ে যাবে তা আমি জানি।” (বুখারী ৭০৯নং)
তিনি বলেন, “যখন তোমাদের কেউ লোকেদের নামায পড়ায়, তখন সে যেন হাল্কা করে পড়ে। কেননা, তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও বৃদ্ধ লোক থাকে। অবশ্য যখন তোমাদের কেউ একা নামায পড়ে, তখন সে যত ইচ্ছা লম্বা করতে পারে।” (বুখারী ৭০৩নং, মুসলিম, সহীহ)
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম! আমি ফজরের নামাযে অমুকের কারণে হাজির হ্‌ই না; সে আমাদের নামায খুব লম্বা করে পড়ায়।’ আবূ মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘এর পর সেদিন আল্লাহর রসূল (সাঃ)-কে ওয়াযে যেরুপ রাগান্বিত হতে দেখেছি সেরুপ আর অন্য কোন দিন দেখি নি। তিনি বললেন, “তোমাদের কেউ কেউ লোকদেরকে (জামাআতের প্রতি) বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। তোমাদের যে কেউ কোন নামাযের ইমামতি করে সে যেন নামায সংক্ষেপ করে পড়ে। কেননা, তাদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও (বিভিন্ন) প্রয়োজন-ওয়ালা লোক আছে।” (বুখারী ৭০২নং, মুসলিম, সহীহ)
মহানবী (সাঃ) বলেন, “জামাআতের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির খেয়াল করে নামায পড়াও। আর এমন মুআযযিন রেখো না, যে আযানের পারিশ্রমিক চায়।” (ত্বাবারানীরানী, মু’জাম, জামে ৩৭৭৩নং)
তিনি মুআয (রাঃ) কে এশার ইমামতিতে লম্বা ক্বিরাআত পড়তে নিষেধ করে বলেছিলেন, “তুমি কি লোকদেরকে ফিতনায় ফেলতে চাও হে মুআয? তুমি যখন ইমামতি করবে তখন ‘অশশামসি অয্বহা-হা, সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা, ইক্বরা বিসমি রাব্বিকা, অল্লাইলি ইযা য়্যাগশা’ পাঠ কর। কারণ তোমার পশ্চাতে বৃদ্ধ, দুর্বল ও প্রয়োজনে উদ গ্রী ব মানুষ নামায পড়ে থাকে। (বুখারী ৭০৫, মুসলিম, না, মিশকাত ৮৩৩ নং)
আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিনত্বারখান বলেন, একদা আমরা শায়খ ইমাদের পশ্চাতে নামায পড়ছিলাম। আমার পাশে এক ব্যক্তি নামায পড়ছিল, -আমার মনে হয়- তার কোন ব্যস্ততা ছিল। যখন নামায থেকে ফারেগ হ্‌লাম, তখন সে কসম করে বলল, আর কখনো তাঁর পিছনে নামায পড়বে না। আর সেই সঙ্গে মুআযের ঐ হাদীস উল্লেখ করল। আমি তাকে বললাম, তুমি কেবল এই হাদীসটিই জান? অতঃপর আমি তার কাছে নবী (সাঃ)-এর নামায লম্বা করার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলি উল্লেখ করলাম। এরপর আমি শায়খ ইমাদের পাশে বসলাম এবং ঘটনা খুলে বললাম। আমি তাঁকে বললাম, ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি এবং এই কামনা করি যে, আপনার বিরুদ্ধে যেন কোন প্রকার সমালোচনা না হয়। সুতরাং যদি আপনি নামাযকে একটু হাল্কা করে পড়তেন। তিনি আমার এ কথা শুনে বললেন, ‘সম্ভবত: অতি নিকটে ওরা আমার ও আমার নামায থেকে নিস্ক্রিতি পাবে। ইয়া সুবহানাল্লাহ্‌! ওদের কেউ কেউ (দুনিয়ার) রাজা-বাদশার সামনে সারা দিন দাঁড়িয়ে থাকলে কোন প্রকারের বিরক্তি প্রকাশ করে না; অথচ ওরা ওদের (দ্বীন-দুনিয়ার বাদশা) প্রভুর সামনে সামান্য সময় দাঁড়াতে বিরক্তিবোধ করে?! (মুখালাফাত ফিত্বাহারাতি অসস্বালাহ্‌ ১৮৮পৃ:)
লেখক - আব্দুল হামিদ ফাইজি

Sunday, 17 February 2019

আল্লাহ যখন ভালোবাসেন... | by Shaikh Tamim Al Adnani

আল্লাহ যখন ভালোবাসেন... | by Shaikh Tamim Al Adnani

আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন নাকি ঘৃণা করেন


আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসী, তুমিও তাকে ভালোবাসো। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ.)-ও তাকে ভালোবাসতে থাকেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। অতঃপর সে বান্দার জন্য জমিনেও স্বীকৃতি স্থাপন করা হয়। আর যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক বান্দাকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা করো। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ.)-ও তাকে ঘৃণা করেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন যে,আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা করো এবং আকাশবাসীরাও তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও ঘৃণা স্থাপন করা হয়। (মুসলিম-১৫৭)
সুবহানাল্লাহ! চিন্তা করতে পারেন, মহান আরশের রব আপনার নাম ধরে ঘোষণা করেন আপনাকে তিনি ভালোবাসেন নাকি ঘৃণা করেন, আপনি আপনার আমল আখলাক দ্বারা অনুমান করতে পারবেন হয়ত আপনি আল্লাহর কোনটা পাওয়ার যোগ্য
ইমাম বুখারী জীবনি

ইমাম বুখারী জীবনি

❒ ইমাম বুখারী! -----------------------
Imam bukhari, ইমাম বুখারী

কাল প্রবাহে একটি বিস্ময়ের নাম।  স্মৃতির প্রখরতা, জ্ঞানের গভীরতা, চিন্তার বিশালতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা,  অটুট সততা আর বিশাল পর্বত সম হিম্মতের এক মূর্ত প্রতীক এই মহাপুরুষ। তিনি  ইলমে হাদীসের এক বিজয়ী সম্রাট। তার সংকলিত হাদীসের মহামূল্যবান সংকলন সহীহুল বুখারী বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব মহা গ্রন্থ আল কুরআনের পরেই যার অবস্থান। কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহ তার সাধনার কাছে ঋণী। আসুন, খুব সংক্ষেপে আমরা এই মনিষীকে জানার চেষ্টা করি।
তিনি হচ্ছেন সমকালীন মুহাদ্দিছদের ইমাম হাফেয আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরা বিন বারদিযবাহ আলজু’ফী। তাঁকে আমীরুল মুমিনীন ফীল হাদীছও বলা হয়। ১৯৪ হিঃ সালের ১৩ই শাওয়াল জুমআর রাত্রিতে তিনি বুখারায় জন্ম গ্রহণ করে।
❒ শিশু কাল:
শিশুকালেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতার মৃত্যুর পর মাতার তত্বাবধানে  তিনি প্রতিপালিত হন। দশ বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি জ্ঞান চর্চার প্রতি  আগ্রহী হয়ে উঠেন। অল্প বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেন। শৈশব কালে  মক্তবে লেখাপড়া করার সময়ই আল্লাহ্ তাঁর অন্তরে হাদীছ মুখস্ত ও তা সংরক্ষণ  করার প্রতি আগ্রহ ও ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন। ১৬ বছর বয়সেই হাদীছের  প্রসিদ্ধ কিতাবগুলো পাঠ সমাপ্ত করেন। তাঁর  জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ছোট থাকতেই অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এতে  তাঁর মাতা আল্লাহর কাছে খুব ক্রন্দন করলেন এবং স্বীয় সন্তানের দৃষ্টি  শক্তি ফেরত দেয়ার জন্য তাঁর কাছে অবিরাম দুআ করে যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ এক দিন তাঁর মা স্বপ্নে দেখলেন যে  আল্লাহর নবী ইবরাহীম (আঃ) তাঁকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ ওহে! তোমার সন্তানের  দৃষ্টি শক্তি ফেরত চেয়ে আল্লাহর দরবারে তোমার ক্রন্দনের কারণে তিনি তোমার  সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার  জন্য স্বীয় সন্তানের কাছে গিয়ে দেখেন সত্যিই তাঁর সন্তান সম্পূর্ণ দৃষ্টি  শক্তি ফেরত পেয়েছে।
১৮ বছর বয়সে তিনি হজ্জ পালনের জন্য মক্কায় গমণ করেন। মক্কায় অবস্থান করে তিনি ইলমে হাদীছের চর্চা শুরু করেন। অতঃপর তিনি এই উদ্দেশ্যে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেন এবং এক হাজারেরও অধিক সংখ্যক মুহাদ্দিছের নিকট তেকে হাদীছ সংগ্রহ করেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য সারা রাত জেগে তিনি অত্যন্ত কঠিন পরিশ্রম করতেন। তাঁর স্মৃতি শক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। বলা হয় যে তিনি সনদসহ ছয় লক্ষ হাদীছের হাফেয ছিলেন। আলেমগণ তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যে কোন কিতাবে একবার দৃষ্টি দিয়েই তিনি তা মুখস্ত করে নিতেন।
তাঁর জীবনীতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি  যখন বসরার মুহাদ্দিছদের হাদীছের ক্লাশে হাজীর হতেন তখন অন্যান্য ছাত্রগণ  খাতা-কলম নিয়ে বসে উস্তাদের নিকট থেকে হাদীছ শুনতেন এবং প্রতিটি হাদীছই  লিখে ফেলতেন। কিন্তু ইমাম বুখারী তা করতেন না। কয়েক দিন পর তাঁর সাথীগণ  জিজ্ঞেস করলঃ আপনি শুধু আমাদের সাথে বসে থাকেন কেন? হাদীছগুলো না লেখার  কারণই বা কি? এভাবে সময় নষ্ট করে লাভ কি? বন্ধুরা যখন পিড়াপিড়ি করতে  থাকলো তখন ১৬ দিন পর তিনি বললেনঃ আপনারা আমার নিকট বারবার একই প্রশ্ন  করছেন। আপনারা যে সমস্ত হাদীছ লিখেছেন তা আমাকে পড়ে শুনান। বন্ধুরা তা  দেখানোর পর তিনি সমস্ত হাদীছ মুখস্ত শুনিয়ে দিলেন এবং আরও অতিরিক্ত পনের  হাজার হাদীছ শুনালেন। অতঃপর তাঁর সাথীগণ তাদের কাছে রক্ষিত কিতাবের  হাদীছগুলো ইমাম বুখারীর মুখস্ত কৃত হাদীছের সাথে মিলিয়ে ভুল-ভ্রান্তি ঠিক  করে নিলেন। অতঃপর তিনি বন্ধুদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ এরপরও কি তোমরা বলবে  যে, আমি এখানে অযথা সময় নষ্ট করছি? সে দিন থেকেই হাদীছ শাস্ত্রে তারা ইমাম  বুখারীকে প্রাধান্য দেয়া শুরু করলেন।
❒ বিশ্ময়কর প্রতিভা:
ইমাম বুখারী (রঃ) বলেনঃ আমার অন্তরে এক লক্ষ সহীহ হাদীছ ও দুই লক্ষ যঈফ হাদীছ মুখস্ত রয়েছে।  সহীহ বুখারীর অন্যতম ভাষ্যকার কুস্তুলানীর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ছয় লক্ষ  হাদীছের হাফেয ছিলেন। মুহাদ্দিছ ইবনে খুযায়মা (রঃ) বলেনঃ পৃথিবীতে ইমাম  বুখারী অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ এবং হাদীছের হাফেয আর কেউ জন্ম গ্রহণ করে নি। কেউ কেউ বলেনঃ খোরাসানের যমীনে ইমাম বুখারীর মত আর কেউ জন্ম গ্রহণ করে নি।
ইমাম বুখারীর বাল্যকালের একটি ঘটনা অত্যন্ত চমকপ্রদ। তখন তিনি দশ বছর  বয়সের কিশোর। এ সময় তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ ইমাম দাখিলীর ক্লাশে  হাদীছের পাঠ গ্রহণ করছিলেন। মুহাদ্দিছ দাখিলী এই সনদে একটি হাদীছ উপস্থাপন করলেনঃ سفيان عن أبي إبي الزبير عن إبراهيم
“সুফিয়ান  বর্ণনা করেন আবুয্ যুবাইর হতে আর আবুয যুবাইর বর্ণনা করেন ইবরাহমী হতে।”  বালক বুখারী প্রতিবাদ করে বললেনঃ আবুয যুবাইর ইবরাহীম হতে হাদীছ হাদীছটি  বর্ণনা করেন নি। মুহাদ্দিছ দাখিলী তাঁকে ধমক দিয়ে বললেও তিনি প্রশান্ত  চিত্তে বললেনঃ أبو الزبير عن إبراهيم নয়: বরং زبير بن عدي عن إبراهيم আপনি  দয়া করে একবার আপনার পান্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখুন। অতিরিক্ত জোর  দেয়ার কারণে উস্তাদের মনে সংশয় দেখা দিল। তিনি পান্ডুলিপি দেখে ইমাম  বুখারীকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার কথাই ঠিক। তখন মুহাদ্দিছ  দাখিলী তার জন্য  প্রাণ খুলে দুআ করলেন।
হাদীছ সংগ্রহের জন্য ইমাম বুখারী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে অনেক দেশ  ভ্রমণ করেছেন। সে সময় যে সমস্ত দেশে বিজ্ঞ মুহাদ্দিছগণ বসবাস করতেন তার  প্রায় সবগুলোতেই তিনি ভ্রমণ করেছেন এবং তাদের নিকট থেকে হাদীছ সংগ্রহ  করেছেন। খোরাসানের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও  তিনি যে সমস্ত দেশে ভ্রমণ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মক্কা, মদীনা, ইরাক,  হিজাজ, সিরিয়া, মিশর এবং আরও অনেক শহর।
তৎকালীন সমগ্র ইসলামী রাজ্যে যখন  মুহাদ্দিছ হিসেবে ইমাম বুখারীর কথা ছড়িয়ে পড়ল তখন সেই যুগের বড় বড়  মুহাদ্দিছগণ তাঁকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তাই তিনি যখন বাগদাদে আগমণ  করলেন তখন চারশত মুহাদ্দিছ একত্রিত হয়ে ১০০টি সহীহ হাদীছ নির্বাচন করে তার  সনদ ও মতন পাল্টিয়ে দিয়ে ১০ ভাগে বিভক্ত করে দশজন মুহাদ্দিছের হাতে  সোপর্দ করলেন। অতঃপর তাঁর জন্য হাদীছের মজলিস স্থাপন করা হলো। তিনি যখন আসন  গ্রহণ করলেন তখন প্রথমে একজন মুহাদ্দিছ ১০টি হাদীছ নিয়ে তার দিকে এগিয়ে  গিয়ে একটি একটি করে সবগুলো হাদীছ পাঠ করে শেষ করলেন। প্রতিটি হাদীছ পড়া  শেষ হলেই ইমাম বুখারী বলতেনঃ لاأعرفه অর্থাৎ এ ধরণের কোন হাদীছ আমার জানা নেই। এমনিভাবে ১০ জন বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ১০০টি হাদীছ তাঁর সামনে পাঠ করলেন। সকল হাদীছের ক্ষেত্রেই তিনি বার বার একই কথা বললেন।
পরিশেষে তিনি সকলকে ডেকে উলটপালট কৃত হাদীছগুলোর প্রত্যেকটি হাদীছকে তার আসল সনদের দিকে ফিরিয়ে দিলেন এবং ঠিক করে দিলেন।  হাদীছগুলোর সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েনি এবং মতনসমূহ থেকে একটি  শব্দও ছুটে যায় নি। এমনকি হাদীছগুলো সঠিকভাবে সাজানোতে মুহাদ্দিছগণ তাঁর  কোন ভুল-ত্র“টি ধরতে পারেন নি। বলা হয় যে,  সমরকন্দে যাওয়ার পরও তাঁকে একই নিয়মে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এতে সেই যুগের  সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ হিসেবে সকলেই তাঁকে স্বীকৃত প্রদান করলেন।
ইমাম বুখারী (রঃ) থেকে অসংখ্য মুহাদ্দিছ  সহীহ বখারী বর্ণনা করেছেন। খতীব বাগদাদী (রঃ) বুখারীর অন্যতম রাবী ফিরাবরির  বরাত দিয়ে বলেন যে, তার সাথে প্রায় সত্তর হাজার লোক ইমাম বুখারী থেকে  সরাসরি সহীহ বুখারী পড়েছেন। তাদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ বর্তমানে  জীবিত নেই। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজী, ইমাম  নাসাঈ। তিনি যাদের কাছে হাদীছ শুনেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমাদ বিন  হাম্বাল, ইসহাক বিন রাহওয়াই এবং আরও অনেকেই। তিনি আটবার বাগদাদে আগমণ  করেছেন। প্রতিবারই তিনি আহমাদ বিন হাম্বালের সাথে দেখা করেছেন। প্রত্যেক  সাক্ষাতের সময়ই ইমাম আহমাদ তাঁকে খোরাসান ছেড়ে দিয়ে বাগদাদে স্থায়ীভাবে  বসবাস করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
ইমাম বুখারীর পূর্বে শুধু সহীহ হাদীছসমূহ একত্রিত করে কেউ কোন গ্রন্থ রচনা করেন নি।  সহীহ বুখারী সংকলনের পূর্বে আলেমগণ সহীহ ও যঈফ হাদীছগুলোকে এক সাথেই  লিখতেন। কিন্তু ইমাম বুখারীই সর্বপ্রথম যঈফ হাদীছ থেকে সহীহ হাদীছগুলোকে  আলাদা করে লেখার কাজে অগ্রসর হন।
তিনি তাঁর বিশিষ্ট উস্তাদ ইসহাক বিন রাহওয়াই হতে এই মহৎ কাজের  অনুপ্রেরণা লাভ করেন। তিনি স্বয়ং বর্ণনা করেন যে, এক দিন আমি ইসহাক ইবনে  রাহওয়াইয়ের মসজিদে বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যদি হাদীছের এমন  একটি গ্রন্থ করতো, যাতে শুধু সহীহ হাদীছগুলোই স্থান পেতো তাহলে খুবই সুন্দর  হতো। মজলিসে উপস্থিত সকলেই তাঁর কথা শুনলেও এ কাজে কেউ অগ্রসর হওয়ার সাহস  পায় নি। ইসহাকের কথাগুলো ইমাম বুখারীর  অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল। তিনি সেই দিন হতেই এই মহান দায়িত্ব পালন  করবেন বলে মনে মনে স্থির করলেন।
তাঁর জীবনীতে আরও উল্লেখ করা হয় যে,  তিনি একবার স্বপ্নে দেখলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  পবিত্র শরীরে মাছি বসছে। তিনি এতে কষ্ট পাচ্ছেন। আর ইমাম বুখারী হাতে পাখা  নিয়ে তাঁর পবিত্র শরীর থেকে মাছিগুলো তাড়িয়ে দিচ্ছেন।  তিনি এই স্বপ্নের কথা সেই যুগের একাধিক আলেমের কাছে প্রকাশ করলে সকলেই  বললেন যে, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীছের সাথে যে  সমস্ত জাল ও বানোয়াট হাদীছ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তা থেকে সহীহ হাদীছগুলো  আলাদা করবে। আলেমদের ব্যাখা শুনে সহীহ হাদীছ সম্বলিত একটি কিতাব রচনার  প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবে কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছগুলোই বর্ণনা করেছেন।  কোন হাদীছকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য এবং তা সহীহ বুখারীতে লিপিদ্ধ  করার জন্য যদিও তিনি সুস্পষ্ট করে কোন শর্তের কথা উল্লেখ না করলেও আলেমগণ  তাঁর কাজের উপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত শর্তগুলো বের করেছেনঃ
১) হাদীছের রাবী  তার উপরের রাবীর সমসাময়িক হতে হবে এবং উভয়ের মাঝে সাক্ষাত হওয়া  প্রমাণিত হতে হবে। অর্থাৎ সাক্ষাৎ করা এবং হাদীছ শুনা প্রমাণিত হওয়া  জরুরী। এই শর্তে তিনি অন্যান্য মুহদ্দিছদের খেলাফ করেছেন। এই ক্ষেত্রে ইমাম  মুসলিমের মর্ত হচ্ছে উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ সম্ভব হলেই চলবে। জীবনে কমপক্ষে  একবার সাক্ষাত হয়েছে বলে প্রমাণিত হওয়া এবং নির্দিষ্ট কোন হাদীছ শুনা  জরুরী নয়।
২) রাবী ছিাকাহ তথা নির্ভরযোগ্য হতে হবে।
৩) ন্যায়পরায়ন তথা মানুষের সাথে কথা-বার্তায় ও লেনদেনে সত্যবাদী হতে হবে।
৪) রাবী পূর্ণ ম্মরণশক্তি সম্পন্ন হওয়া।
৫) হাদীছের সনদ মুত্তাসিল হওয়া। অর্থাৎ মাঝখান থেকে কোন রাবী বাদ না পড়া।
কোন হাদীছে উপরোক্ত শর্তগুলো পাওয়া গেলেই ইমাম বুখারী স্বীয় কিতাবে তা লিখে ফেলেন নি। বরং  প্রতিটি হাদীছ লেখার আগে তিনি গোসল করে দুই রাকআত নামায পড়েছেন এবং  ইস্তেখারা করেছেন। তাঁর অন্তরে যদি হাদীছটি সম্পর্কে কোন প্রকার সন্দেহ  জাগতো তাহলে সে হাদীছটি শর্ত মোতাবেক সহীহ হওয়া সত্ত্বেও তিনি সহীহ  বুখারীতে লিখতেন না। এইভাবে মসজিদে নববীতে বসে তিনি তা লেখা শুরু করেন এবং  একটানা ১৬ বছর এই কাজে দিন রাত পরিশ্রম করেন।
লেখা শেষ করেই তাড়াহুড়া করে তা মানুষের জন্য প্রকাশ করেন নি;  বরং কয়েকবার তিনি তাতে পুনদৃষ্টি প্রদান করেছেন, ভুল-ত্রুটি সংশোধন  করেছেন এবং পরিমার্জিত করেছেন। তিনবার তিনি তা লিপিবদ্ধ করেন। সর্বশেষ  লিখিত কপিটিই বর্তমানে মুসলিম জাতির নিকট অমূল্য রত্ম হিসেবে সংরক্ষিত  রয়েছে। ইমাম বুখারীর উস্তাদ ও বন্ধুগণের নিকট কিতাবটি পেশ করলে তাদের  সকলেই তা পছন্দ করেছেন। যারা এই কিতাবটির প্রশংসা করেছেন তাদের মধ্যে  রয়েছেন আহমাদ বিন হাম্বাল, আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আরও  অনেকেই। তারা সকলেই এর সকল হাদীছকে সহীহ বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।তাদের পরে এই উম্মাত আল্লাহ্ তাআলার কিতাবের পরই এটিকে সর্বাধিক সহীহ বলে কবুল করে নিয়েছে।
ইমাম বুখারী প্রচুর ধনসম্পদের মালিক ছিলেন। মুহাম্মাদ বিন আবু হাতিম বলেনঃ ইমাম বুখারীর এক খন্ড যমীন ছিল। এ থেকে তিনি প্রতি বছর সাত লক্ষ দিরহাম ভাড়া পেতেন।  এই বিশাল অর্থ থেকে তিনি খুব সামান্যই নিজের ব্যক্তিগত কাজে খরচ করতেন।  তিনি খুব সীমিত খাদ্য গ্রহণ করতেন। বেশীর ভাগ সময়েই খাদ্য হিসেবে শসা,  তরমুজ ও সবজি গ্রহণ করতেন। সামান্য খরচের পর যে বিশাল অর্থ অবশিষ্ট থাকতো  তার সম্পূর্ণটাই তিনি ইলম অর্জনের পথে খরচ করতেন এবং অভাবীদের অভাব পূরণে  ব্যয় করতেন। তিনি সব সময় দিনার ও দিরহামের থলে সাথে রাখতেন। মুহাদ্দিছদের মধ্যে যারা অভাবী ছিলেন তাদেরকেও তিনি প্রচুর পরিমাণ দান করতেন।
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি একবার একটি থলের ভিতর একহাজার  স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে হাদীছ অন্বেষণের সফরে বের হলেন। সফর অবস্থায় কোন এক  চোর এই স্বর্ণমুদ্রাগুলো দেখে ফেলে এবং তা চুরি করার জন্য ইমাম বুখারীর  পিছনে লাগে। কিন্তু চোর তা চুরি করার সকল প্রকার চেষ্টা করা সত্ত্বেও  ব্যর্থ হয়। পথিমধ্যে ইমাম বুখারী পানি পথে ভ্রমণের জন্য জাহাজে আরোহন করলে  চোরও তাঁর সাথে যাত্রা শুরু করে। সেখানেও সে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।  পরিশেষে চোর মুদ্রাগুলো চুরি করার নতুন এক কৌশল অবলম্বন করে। সে এই বলে  চিৎকার করতে থাকে যে, এই জাহাজে উঠার পর আমার একহাজার স্বর্ণমুদ্রা চুরি  হয়ে গেছে। মুদ্রাগুলো একটি থলের ভিতর ছিল। সে থলেটির ধরণও বর্ণনা করল, যা  সে ইতিপূর্বে ইমামের কাছে দেখেছিল। চিৎকার ও কান্নাকাটির মাধ্যমে চোরটি  জাহাজের মাঝি-মাল্লাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। মাঝি-মাল্লাগণ এক এক করে সকল যাত্রীর পকেট ও শরীর চেক করা শুরু করল। এই  দৃশ্য দেখে ইমাম বুখারী চিন্তা ও হতাশায় পড়ে গেলেন। চোরের উদ্দেশ্য বুঝতে  পেরে তিনি ভাবলেন এখন যদি আমাকে তল্লাশি করা হয় তাহলে তো আমার কাছে  একহাজার স্বর্ণমুদ্র পাওয়া যাবে আর আমিই চোর হিসাবে সাব্যস্ত হবো। আমি  অভিযোগ অস্বীকার করলেও আমার কথায় কেউ কর্ণপাত করবে না। আর আমি যদি আজ চোর  হিসেবে ধরা পড়ি তাহলে সারা দুনিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়বে যে, মুহাম্মাদ বিন  ইসমাঈল আল বুখারী এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা চুরি করেছে। আমার সারা জীবনের  সাধনা ব্যর্থ হবে। আমি যে সমস্ত সহীহ হাদীছ সংগ্রহ করেছি, তাও লোকেরা  মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং পবিত্র ইলমে হাদীছের অবমাননা হবে। এই কঠিন  পরিস্থিতিতে তিনি এক হাজার স্বর্ণমুদ্রার মায়া ত্যাগ করে রাসূলের হাদীছে  মর্যাদ অক্ষুন্ন রাখার সিদ্বান্ত গ্রহণ করলেন।
তিনি  মুদ্রাগুলা সাগরে ফেলে দিলেন! যখন চেক করা হল তখন কিছুই পাওয়া গেল না উলটা চোরই মিথ্যাবাদী সাব্স্থ হল।
সংক্ষিপ্তভাবে কিতাবটি সহীহ বুখারী হিসোবে প্রসিদ্ধতা অর্জন করলেও এর পূর্ণ নাম হচ্ছে الجامع الصحيح المسند من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه আল  জামেউস সহীহহুল মুসনাদু মিন উমরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। তবে কারও মতে দীর্ঘ নামটির মধ্যে  শব্দের তারতম্য রয়েছে। এই কিতাবে তিনিই সর্বপ্রথম হাদীছসমূহকে আধুনিক  পদ্ধতিতে সুবিন্যাস্ত করেন। কিতাবটি রচনার জন্য তিনি মদীনা  মুনাওয়ারায় গমণ করেন। মসজিদে নববীতে বসে একটানা ১৬ বছর কঠোর পরিশ্রম এবং  ঐকান্তিক সাধনার ফলশ্র“তিতে সম্পাদিত এই গ্রন্থটি সর্বযুগের সকল আলেমের  নিকট সমাদৃত হয়। সমকালীন মুহাদ্দিছ ও হাদীছ বিশেষজ্ঞ পন্ডিতমন্ডলী এই  মহাগ্রন্থের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বিচার-বিবেচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা,  আলোচনা-সমালোচনা এবং পর্যালোচনা করেছেন। সমগ্র উম্মত সর্বসম্মতভাবে এই  গ্রন্থটিকে أصح الكتاب بعد كتاب الله  আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও নির্ভুল বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।  উপরে বলা হয়েছে যে, প্রায় নব্বই হাজার লোক ইমাম বুখারীর নিকট হতে এই  কিতাবটির পুনরাবৃত্তি শ্রবণ করেছেন। বর্তমান মুসলিম জাহানের এমন কোন স্থান ও  ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে না যেখানে এই কিতাবটি শিক্ষা দান  করা হয় না। ইসলামী শিক্ষার শিক্ষার্থীগণ এই গ্রন্থটি অধ্যয়ন ও পাঠ দানের  যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমেই বড় আলেম রূপে স্বীকৃত হয়ে থাকেন।
এ যাবৎ সহীহ বুখারীর যতগুলো ব্যাখ্যা গ্রন্থ বের হয়েছে হাদীছের অন্য  কোন কিতাবের এত বেশী সংখ্যক ব্যাখ্যা বের হয় নি। এই ব্যাখ্যা গ্রন্থগুলোর  মধ্যে আল্লামা হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী কর্তৃক রচিত ফতহুল বারী  সর্বশ্রেষ্ট স্থান দখল করে আছে। কেউ কেউ সহীহ বুখারীর উপর লিখিত ব্যাখ্যা  গ্রন্থ শতাধিক বলে মন্তব্য করেছেন।
❒ নির্যাতন:
ইমাম বুখারীর শেষ জীবন খুব সুখ-শান্তিতে  অতিবাহিত হয় নি। বুখারার তৎকালীন আমীরের সাথে তাঁর মতবিরোধ হয়েছিল। ঘটনার  বিস্তারিত বিবরণ এই যে, যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ হিসাবে যখন ইমাম বুখারীর  সুনাম ও সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল তখন বুখারার আমীর স্বীয়  সন্তানদেরকে সহীহ বুখারী পড়ানোর জন্য ইমামের কাছে প্রস্তাব করলো। আমীর আরও  প্রস্তাব করলো যে, তার সন্তানদের পড়ানোর জন্য ইমাম বুখারীকে রাজ দরবারে  আসতে হবে। কারণ সাধারণ জনগণের সাথে মসজিদে বসে আমীরের ছেলেদের পক্ষে সহীহ  বুখারী পড়া সম্ভব নয়।
ইমাম বুখারী তাঁর মসজিদ ও সাধারণ  লোকদেরকে ছেড়ে দিয়ে রাজ দরবারে গিয়ে আলাদাভাবে আমীরের ছেলেদেরকে বুখারী  পড়ানোতে ইলমে হাদীছের জন্য বিরাট অবমাননাকর ভেবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান  করলেন। তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিলেন যে, আমি কখনও হাদীছের ইলমকে হেয়  প্রতিপন্ন করতে পারবো না এবং এই মহান রত্মকে আমীর-উমারাদের দারস্থ করতে  পারবো না। আমীর যদি সত্যিকার অর্থে ইলমে হাদীছের প্রতি অনুরাগী হন, তাহলে  তিনি যেন তাঁর সন্তানদেরসহ আমার বাড়িতে ও মসজিদে উপস্থিত হন।
এতে আমীর ইমামের প্রতি রাগান্বিত হয়ে  তাঁকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করলেন এবং ইমামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার জন্য  দুনিয়া পূজারী কিছু আলেম ঠিক করলেন। আমীরের আদেশ এবং ষড়যন্ত্রের  প্রেক্ষিতে তিনি জন্মভূমি বুখারা ত্যাগ করে নিশাপুরে চলে যান। নিশাপুরেও  অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা ঘটলে পরিশেষে সমরকন্দের খরতঙ্গ নামক স্থানে চলে যান।  বুখারা থেকে বের হওয়ার সময় ইমাম আল্লাহর কাছে এই দুআ করেন যে, হে  আল্লাহ্! সে আমাকে যেভাবে অপমান করে বের করে দিলো তুমিও তাকে অনুরূপ  লাঞ্চিত করো। মাত্র এক মাস পার হওয়ার পূর্বেই খুরাসানের আমীর খালেদ বিন  আহমাদের বিরুদ্ধে জনগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাকে ক্ষমতা ছাড়া করলো।  পরবর্তীতে বাগদাদের জেলে থাকা অবস্থায় সে মৃত্যু বরণ করে। শুধু তাই নয়  যারাই ইমাম বুখারীর বিরুদ্ধে তার সহযোগীতা করেছে তারাই পরবর্তীতে লাঞ্চিত  হয়েছে।
❒ ফক্বিহ/মুহাদ্দিস গনের অভিমত :
১) ইমাম ফাল্লাস (রঃ) বলেনঃ যে হাদীছ সম্পর্কে ইমাম বুখারী জানেন না, সেটি হাদীছ নয়।
২) ইমাম আবু নুআইম আহমাদ বিন হাম্মাদ (রঃ) বলেনঃ ইমাম বুখারী হচ্ছেন এই উম্মতের ফকীহ। ইয়াকুব বিন ইবরাহীমও অনুরূপ বলেছেন।
৪) কুতাইবা বলেনঃ  পৃতিবীর পূর্ব ও পশ্চিম হতে আমার নিকট অনেক লোক এসেছে কিন্তু মুহাম্মাদ  বিন ইসমাঈল আল বুখারী যতবার এসেছে আর কেউ এত বেশীবার আগমণ করে নি।
৩) কোন কোন বিদ্যান ফিকহ ও হাদীছ শাস্ত্রে ইমাম বুখারীকে আহমাদ বিন হাম্বাল এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইয়ের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
৫) ইমাম আবু হাতিম রাযী বলেনঃ যে সমস্ত মুহাদ্দিছ বাগদাদে আগমণ করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী হলেন ইমাম বুখারী।
৬) ইমাম তিরমিজী (উরঃ) বলেনঃ হাদীছের ইল্লত, ইতহিাস এবং সনদ সম্পর্কে বুখারীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী ইরাক এবং খোরাসানের যমীনে আর কাউকে দেখি নি।
৭) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রঃ) বলেনঃ খোরাসানের যমীনে ইমাম বুখারীর অনুরূপ আর কেউ জন্ম গ্রহণ করে নি।
৮) ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (রঃ) বলেনঃ ইমাম বুখারীর সমকক্ষ আর কেউ ছিল না।
৯) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর ও আবু বকর ইবনে আবী শায়বা বলেনঃ তাঁর মত আর কাউকে দেখি নি।
১০) আলী বিন হাজার বলেনঃ তাঁর মত আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই।
হাদীছ চর্চায় সদা ব্যস্ত থাকলেও এবাদত বন্দেগীতে তিনি মোটেও পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁর  জীবনীতে উল্লেখিত হয়েছে যে, তিনি প্রতি বছর রামাযান মাসের প্রতিদিনের  বেলায় একবার কুরআন খতম করতেন। আবার তারাবীর নামাযের পর প্রতি তিন রাত্রিতে  একবার খতম করতেন। মুহাম্মদ বিন আবু হাতিম আল ওয়াররাক বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত মোতাবেক তিনি শেষ রাতে তের রাকআত তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন। তিনি আরও বলেন যে, আমি তাঁর সাথে থাকা সত্বেও আমাকে কখনই জাগাতেন না। আমি বলতামঃ আপনি আমাকে ঘুম থেকে কখনই না জগ্রত করার কারণ কি? উত্তরে ইমাম বুখারী বলতেনঃ তুমি যুবক লোক। আমি তোমার ঘুমকে নষ্ট করতে চাই না।
❒ মৃত্যু:
ইমাম বুখারী শেষ বয়সে অনুরূপ ফিতনা ও অবাঞ্চিত ঘটনাবলীতে পার্থিব জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। এক  দিন তিনি তাহাজ্জুদের নামাযের আল্লাহর নিকট এ বলে আবেদন জানান যে, “হে  আল্লাহ্! এ সুবিশাল পৃথিবী আমার জন্য একান্তই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। অতএব  আপনি আমাকে আপনার নিকট তুলে নিন। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা ইমাম  বুখারীর ব্যাথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ের সবিনয় নিবেদন কবুল করলেন। অল্প কিছু  দিনের মধ্যেই ইলমে হাদীছের এই খাদেম দুনিয়া থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন।
সমরকন্দের খরতঙ্গ জনপদেই ৬২ বছর বয়সে  হিজরী ২৫৬ সালের ঈদুল ফিতরের রাত্রিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। ঈদের দিন যোহরের  নামাযের পর তাঁর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর অসীয়ত মোতাবেক তিনটি  সাদা কাপড় দিয়ে তাঁকে কাফনে জড়ানো হয়। এতে কোর্তা ও পাগড়ি ছিল না।
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দাফন  করার পর তাঁর কবর থেকে মিসকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুঘ্রাণ বের হতে থাকে।  বেশ কিছু দিন এই অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। লোকেরা তাঁর কবর থেকে মাটি  নেওয়া শুরু করে দেয়। অতঃপর বিষয়টি নিয়ে মানুষ ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায় প্রাচীর দিয়ে মজবুতভাবে কবরটি ঢেকে দেয়া হয়।
আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন এই মহান ব্যক্তিকে জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় দান করেন। আমীন।
❒ তথ্যসূত্রঃ
  ১) আলবেদায়া ওয়ান নেহায়া
  ২) আল ওয়াফী ফিল ওয়াফিয়াত
  ৩) সিয়ারু আলামিন্ নুবালা
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

► আপনার যদি পোস্টটি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করুন ও পরবর্তী  আপডেট পেতে পেজটি লাইক দিয়ে রাখুন। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম/২৬৭৪,৬৮০৪]
► ইছলাহ্  কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
► https://www.facebook.com/ichlah/
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
গুনাহ মাপের উপায়।

গুনাহ মাপের উপায়।

গুনাহ মাপের উপায়
গুনাহ মাপের উপায়

 মানুষদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে গুনাহ করেনি। গুনাহ সবাই-ই করে। ছোট-বড় অনেক গুনাহ। প্রকাশ-অপ্রকাশ্য হরেক রকমের গুনাহ। আল্লাহর হক নষ্টের গুনাহ আবার বান্দার হক নষ্টের গুনাহ। কথার দ্বারা গুনাহ কিংবা কাজের দ্বারা গুনাহ। বিচিত্র এই দুনিয়ায় গুনাহও বৈচিত্রময়।
শত গুনাহ করার পরও আমরা একটা জায়গায় আশা খুঁজে পাই। তা হলো, আল্লাহর ক্ষমা আর রহমত। যখনই কুরআন খুলে দেখতে পাই আল্লাহ বলেছেন “আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করেন”। অন্য জায়গায় যখন পড়ি “নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাহ কবুলকারী”। তখন মনের কোণে আশা জাগে। আল্লাহ হয়তো মাফ করবেন, তিনি হয়তো তাওবাহ কবুল করবেন। ফলে জান্নাতে যেতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।
আবার যখন নিজের গুনাহের দিকে তাকাই আর আল্লাহর আযাব, জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কথা কুরআনের পাতা উল্টালে চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন গা শিহরিত হয়ে ওঠে, চোখটা ছলছল করে ওঠে। আল্লাহর হিসাবের কথা ভাবলেই কেমন যেনো জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব মনে হয়। আবার একটু পরেই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের কথা শুনলে বা পড়লে অন্তরে একটু প্রশান্তি পাই। মনে হয় আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন না।
আসলে আমরা জানি না, কোথায় আমাদের শেষ ঠিকানা। জান্নাত নাকি জাহান্নাম। আমরা শক্তভাবে আশা করি, আল্লাহ আমাদের মাফ করবেন, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে জান্নাত দিবেন। নিজেদের আমল দিয়ে আমরা জান্নাতে যেতে পারবো না। আল্লাহর রহমতই ভরসা। আল্লাহর রহমত না পেলে জান্নাতের আশা বৃথা। তাই আমাদের উচিত সাধ্যানুযায়ী ফরয-সুন্নাহ ইবাদাত পালন করে যাওয়া, হারাম থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া, তাওবাহ করা আর আল্লাহর রহমত কামনা করা।
উৎস: শাহাদাৎ হুসাইন খান ফয়সাল রাহিমাহুল্লাহ ভাইয়ের ফেসবুক ওয়াল থেকে
জেনে নিন রাসুল (সঃ) স্ত্রীদের খুশি রাখতেন

জেনে নিন রাসুল (সঃ) স্ত্রীদের খুশি রাখতেন

জেনে নিন, মুহাম্মদ (সঃ) কিভাবে তার স্ত্রীদের খুশি
রাখতেন "

==============================================
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে তার কয়েক জন
বিবি একসাথে বসা ছিলেন,
এমন সময, একজন বিবি প্রশ্ন করলেন।
হুজুর আপনার বিবি গণের মাঝে কাকে বেশি
ভালবাসেন?
কেমন কঠিন প্রশ্ন?
কারন সব বিবি এখানে উপস্থিত।
নবীজী কাকে হাসাবেন আর কাকে কাঁদাবেন ।
কৌশলে বললেন আগামী কালকে তার জবাব দেব।
অতপর,
নবীজী সাঃ তার কুমারী স্ত্রী আয়েশার ঘরে প্রবেশ
করলেন,
এবং ২টি খেঁজুর দিলেন আর বললেন আয়েশা এই
খেঁজুরের কথা কাউকে বলবে না।
এভাবে সকল বিবিগণের ঘরে প্রবেশ করে সকলকেই ২টি
করে খেঁজুর দিলেন আর বললেন এই খেঁজুরের কথা
কাউকে বলবে না।
অতপর,
পরের দিন সকল বিবিগণ একত্রিত হলেন আর বললেন হুজুর
জবাব দেন ?
আপনি কোন স্ত্রীকে বেশি ভালবাসেন?
.
নবীজী উওরে বলেনঃ
গত রজনীতে যাকে আমি ২টি খেঁজুর দিয়ে ছিলাম ।
তাকেই আমি সবচাইতে বেশি ভালবাসি।
তখন সকল বিবিগণ মনে মনে আনন্দিত।
:
নবিজী মুছকি হাসলেন,
কারন নবিজী তো সকলকেই খেঁজুর দিয়ে ছিলেন ।
কিন্তু একজনের টা অন্যজন জানে না।
:
অতএব নবীজীর ভালবাসা সকলের উপর সমান ভাবে চলে
গেল কেউ নারাজ হয়নি ।
এটাকেই বলে ইনসাফ ও ইসলামী বিনোদন এবং সুন্দর
কৌশল l
:

এটার নামই দ্বীন ইসলাম

:
কত যে শান্তি ইসলামে
:
আমরা বুঝি না..........
:
আল্লাহ আমাদের বোঝার তউফিক দান করুন """" আমিন
"""""
-----------নিজে জানুন, লাইক এবং শেয়ার করে বিশ্বকে
জানান।

Friday, 15 February 2019

জুমআর দিনে গোসলের ফাযীলাত

জুমআর দিনে গোসলের ফাযীলাত

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুল জুমু’আ (জুমু’আর নামায) (كتاب الجمعة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৬
__

৪. জুমআর দিনে গোসলের ফাযীলাত

৪৯৬। আওস ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যে ব্যক্তি গোসল করল এবং গোসল করাল, সকাল সকাল মাসজিদে আসল, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল এবং নিশ্চুপ থাকল— তার জন্য প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের (নফল) রোযা ও নামাযের সাওয়াব রয়েছে। ওয়াকী বলেন, ‘গোসল করল এবং করাল’ শব্দের অর্থ নিজে গোসল করল এবং স্ত্রীকে গোসল করাল। -সহীহ। ইবনু মাজাহ- (১০৮৭)।
জুমআর দিনে গোসলের ফাযীলাত
__________________________________________
ইবনুল মুবারাক বলেনঃ গোসল করল ও গোসল করাল এর অর্থ হলো— নিজে গোসল করল এবং মাথা ধুল। এ অনুচ্ছেদে আবু বাকর, 'ইমরান ইবনু হুসাইন, সালমান, আবু যার, আবু সাঈদ, ইবনু উমার ও আবু আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবু আশ'আসের নাম শারাহীল। আবু জানাব হলেন, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ

Thursday, 14 February 2019

কেমন হবে বিচার দিবস ?

কেমন হবে বিচার দিবস ?

বিচার দিবস,জাহান্নাম,কবরের আজাব,হাশর,ইসলামিক ভিডিও,কে যাবে জাহান্নামে,মিজান,বিচারের দিন,দেখুন পাপী মহিলার,কেয়ামতের দিন,জান্নাত,জাহান্নামের বিচার,হাসরের ময়দান
কেমন হবে বিচার দিবস ?
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল
আজীম।
মহান আল্লাহ বলেন,
১। সেদিন সকলে একত্রিত হবে। [সূরা আন'আম-২২]
২। দুনিয়ার জমিন হবে রুটির ন্যায়। [মিশকাত ৫২৯৮]
৩। মানুষ নগ্নপদ, নগ্নদেহ খতনাবিহীন সমবেত হবে ল।
[বুখারি,মুসলিম]
৪। কেউ কারও প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার অবকাশ পাবে
না।[মিশকাত-৫৩০২]
৫। কাফেরদেরকে মুখের মাধ্যমে হাঁটিয়ে একত্রিত
করা হবে। [মিশকাত ৫৩০৩]
৬। প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন লোক জাহান্নামী বলে
ঘোষিত হবে। [বুখারি-৪৭৪১]
৭। ঐদিন মানুষ ঘর্মাক্ত হবে, এমনকি ঘাম তাদের কান
পর্যন্ত পৌছাবে। [বুখারি]
৮। সূর্যকে অতি নিকটে আনা হবে এবং মানুষের আমল
অনুপাতে ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে। [বুখারি,মুসলিম]
৯। দুনিয়াতে যারা আল্লাহর জন্য সিজদা করেনি
কিংবা লোক দেখানোর জন্য সিজদা করেছে তারা
সেদিন আল্লাহকে সিজদা দিতে পারবে না।
[সূরা কালাম ৪২-৪৩]
১০। মুমিনদের হিসাব হবে মুখোমুখি। [মিশকাত]
১১। যার হিসাব পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক
্ষানুভাবে যাচাই করে
হবে, সে ধবংস হবে। [মিশকাত৫৩১৫]
১২। ঐদিন মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে। [সূরা
ইয়াসিন-৬৫]
১৩। হাত, পা, কান, চক্ষু এবং চামড়া মানুষের বিরুদ্ধে
সাক্ষ্য দিবে। [সূরা নুর ২৪]
১৪। সে দিনের সময় সীমা হল ৫০ হাজার বছরের
সমান। [মুসলিম, মিশকাত ১৭৭৩]
১৫। তবে ঐ দিন মুমিনের জন্য একটি ফরজ সালাত
আদায়ের সময়ের ন্যায় মনে হবে। [বায়হাকী,
মিশকাত ৫৫৬৩]
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে ক্ষমা করুক এবং
পরিপূর্ণ ঈমান ও আমল নিয়ে তার কাছে যাওয়ার
তৌফিক দান করুক। আমিন

Wednesday, 13 February 2019

কেমন হবে আপনার মৃত্যু?

কেমন হবে আপনার মৃত্যু?


জীবনের যে বাস্তবতার ব্যাপারে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিশ্চিত তা হচ্ছে মৃত্যু। মৃত্যু নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন। কেমন হবে মৃত্যুবরণ করার অভিজ্ঞতা? আমাদের কাছের মানুষেরা যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতাগুলো কেমন ছিল? আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমত, এই নিশ্চিত গন্তব্যের চিত্র তিনি আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন নি, বরং তার রাসুল (সঃ) এর মাধ্যমে আমাদের এই বিষয় নিয়ে অনেক কিছু জানিয়েছেন, যেন আমরা সঠিক প্রস্ততি নিতে পারি।




জীবনের যে বাস্তবতার ব্যাপারে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিশ্চিত তা হচ্ছে মৃত্যু। মৃত্যু নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন। কেমন হবে মৃত্যুবরণ করার অভিজ্ঞতা? আমাদের কাছের মানুষেরা যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতাগুলো কেমন ছিল? আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমত, এই নিশ্চিত গন্তব্যের চিত্র তিনি আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন নি, বরং তার রাসুল (সঃ) এর মাধ্যমে আমাদের এই বিষয় নিয়ে অনেক কিছু জানিয়েছেন, যেন আমরা সঠিক প্রস্ততি নিতে পারি।
হে বাবা আমার বিয়ের ব্যবস্থা করুন ?

হে বাবা আমার বিয়ের ব্যবস্থা করুন ?

হে বাবা আমার বিয়ের ব্যবস্থা করুন
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন__"আল্লাহ তোমাদেরকে অসিয়ত করছেন, তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে"।[ সূরা, নিসা]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন___ "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, ইমাম (নেতা-শাসক) তার অধীনস্থ জনগণের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, সে ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। মহিলা হচ্ছেন তার স্বামীর গৃহের কর্তৃত্বকারিণী। তাকেও তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে…"।
কাজেই সন্তান-সন্ততি মা-বাবার প্রতি আল্লাহর এক বিরাট আমানত। এ আমানত সংরক্ষণ করা পিতা-মাতার অতিভ জরুরী। সন্তান-সন্তুতির প্রতি পিতামাতার অধিকারগুলোকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়, যথা__ব্যক্তিগত অধিকার ও নৈতিক অধিকার।
ব্যক্তিগত অধিকারের আওতায় আছে, যথা__ তাদের সুন্দর একটা নাম রাখা। সন্তান জন্মের পর মায়ের বুকের দুধ থেকে তাকে বঞ্চিত না করা। হালাল রুজি-রোজগার থেকে শিশুকে প্রতিপালন করা। সাধ্যানুযায়ী তার মৌলিক প্রয়োজনসমূহ পূরণ করা। সন্তানদের সবাইকে সমান চোখে দেখা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য না করা।
নৈতিক অধিকারের আওতায় আছে, বাল্যবয়স থেকেই সন্তানদেরকে সঠিক আদাব ও তারবিয়াত প্রদানের প্রচেষ্টা চালানো পিতামাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন___ "উত্তম আদাব তারবিয়াত প্রদানের চেয়ে বড় আর কিছু নেই যা মাতা-পিতা সন্তানের জন্য করতে পারে"। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন___"তোমাদের সন্তানদেরকে সম্মানিত করতে তাদেরকে সুন্দর আদাবসমূহ শিখিযে দাও"। সুন্দর আদাব তারবিয়াতের মাধ্যমেই তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর আশা করা যায়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন___
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও"।[সূরা,তাহরীম]
সন্তান-সন্ততির আদাব তারবিয়াত কেমন হওযা উচিত হযরত লোকমান হাকীম আলাইহিস সালামের সন্তানদের প্রতি দশটি অছিয়ত তার উত্তম নমুনা হিসেবে আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য পবিত্র কুরআনে কারিমে তুলে ধরেছেন। [সূরা, লোকমানের আয়াত১৩-১৯] উপেরোল্লিখিত আয়াতগুলোর সারসংক্ষেপ, সন্তানের তারবিয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে ইসলামি জ্ঞানের যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, যথা__ ঈমানী জ্ঞান অর্থাৎ সঠিক ইসলামি আক্বীদা। পিতা-মাতার হক। নামায তথা শরীয়তের আহকামসমূহ এবং মাসায়েল। সৎকাজের আদেশ অসৎকাজের নিষেধ। চারিত্রিক গুণাবলী ইত্যাদি।
সন্তান-সন্ততিকে সঠিক তারবিয়াত প্রদানে লাভ ও না দেয়ার ক্ষতি।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন__ "যারা ঈমানদার হয়েছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের অনুগামী হয়েছে, আমি তাদেরকে তাদের সন্তানদের সাথে মিলিত করে দেবো। আর তাদের আমলকে (সৎকর্মকে) বিন্দুমাত্রও হ্রাস করবো না"। [সূরা, তুর]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন__ "আদম সন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে তার সকল আমলের সমাপ্তি ঘটে যায় শুধুমাত্র তিনটি আমল ছাড়া। আর সেগুলো হচ্ছে, যথা__সাদাকায়ে জারিয়া। এমন ইলম যা থেকে লোকেরা ফায়দা পেতে থাকে। নেক সন্তান যে তার জন্য দু'আ করতে থাকে"।
এর বিপরীতে মানুষ তার প্রতি আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সন্তান সন্ততিকে গড়ে তোলার এ আমানতের খেয়ানত করলে কাল কিয়ামতের দিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। শুধু তাদের দু'আ থেকে বঞ্চিত হওয়া নয় তাদের পথ ভ্রষ্টতার দায়-দায়িত্বের অনেকাংশও এসে পড়বে তার উপর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন___"একজন মানুষের এতটুকুন গুনাহই যথেষ্ট যে, সে তার উপর নির্ভরশীলদেরকে (সন্তানদেরকে) বরবাদ করে দেয়"।
সন্তান যখন গুণী, সজ্জন ও চরিত্রবান হয় এবং সব ধরনের ভ্রান্তি ও পদস্খলন থেকে নিরাপদ থাকে, কেবল তখনই সে মাতা-পিতার জন্য পরিপূর্ণ নিয়ামত হিসেবে পরিগণিত হয়। তারপর সন্তানাদি থেকে আসে গোলাব-কুঁড়ির মতো কচি কচি নাতি-নাতনি ___ পরিবারের আসরগুলোকে তারা জমিয়ে তোলে নিষ্পাপ মুখের হাসিতে আর পুরো ঘরজুড়ে জড়িয়ে দেয় মুঠো মুঠো খুশির বিচিত্র সব মণিমুক্তো। এভাবে একটি পরিবার থেকে জন্ম নেয় আরও অনেক পরিবার, বয়ে চলে মানুষের বংশ-পরম্পরা। সন্তানদের দেওয়া মুরুব্বিদের তারবিয়াত ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যায় পরবর্তী বংশধরদের হৃদয়ে হৃদয়ে। উত্তম তারবিয়াতের সাওয়াব ও নিরবধি জমা হতে থাকে পূর্ববর্তীদের আমলনামায়।
সন্তানদের আদর্শচ্যুতি ও চারিত্রিক অধঃপতনের অন্যতম বৃহত্তম কারণ হলো, নানান অজুহাতে তাদের বিয়েকে পিছিয়ে দেওয়া।
মোবাইল ইন্টারনেট।বর্তমানে সহজলভ্য একান্ত আলাপচারিতার এমন আরও কত মাধ্যম! গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ার পরিবেশ যেমন বিস্তৃত। উন্মাদনা-উদ্রেককারী সরঞ্জাম ও তেমনই মানুষের হাতের নাগালে। অশ্লীলতা-বেলেল্লাপনা প্রচার-প্রসার পাশ্চাত্যের নোংরা প্রচারণাও বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে যুবক-যুবতিদের যে কতটা চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটছে, তা আমাদের কারও অজানা নয়। যে আসক্তির পেছনে পড়ে তারা পাপাচারে হাবুডুবু খাচ্ছে, সে আসক্তি আর কামবাসনা পূরণের সহজ পথ ও বৈধ মাধ্যম হলো বিয়ে। বিয়ের আমল করেই যুবক-যুবতিরা বেঁচে থাকতে পারে চারিত্রিক বহু অবক্ষয় থেকে। কিন্তু বিয়ের মতো আমলটি করতে চাইলেই কি তারা সহজে এ চাওয়া পূর্ণ করতে পারে? বর্তমানে মাতা-পিতারা কি সন্তানদের বিয়ের আগ্রহের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন?
অনেক মাতা-পিতা তো বরং নিজেদের পরিণত বয়সী সন্তানদের ব্যাপারে ভাবেন, তাদের তো এখনো বিয়ের বয়সই হয়নি; কিংবা বয়স হলেও বিয়ে করার মতো অবস্থানে তারা এখনো পৌঁছতে পারেনি! মাতা-পিতারা ভাবনা-চিন্তা হলো, ছেলেকে আগে লাখপতি হতে হবে, গাড়ি-বাড়ির মালিক হতে হবে; তারপর আসবে বিয়ের প্রশ্ন! এমনিভাবে মেয়েকেও আগে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে, স্বাবলম্বিনী হতে হবে; তারপর দেখা যাবে বিয়ে।
আসলে পরিবারের কেউই বুঝতে চায় না যুবক-যুবতিদের কষ্ট! এজন্যই তারা লজ্জায় পড়ে না পারে মাতা-পিতাকে কিছু বলতে, আর না পারে বৈধভাবে নিজেরা কিছু করতে। আজকের যুবক-যুবতিদের অল্পসংখ্যকই হয়তো ধৈর্যধারণ করে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশই জড়িয়ে পড়ছে অবৈধ প্রেম-ফ্রি মিক্সিং, এমনকি এসবের শেষ পরিণাম জিনা-ব্যভিচার! এ কথা আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারব না, যৌবনের শুরু থেকে দীর্ঘ একটা সময় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার সুযোগ বা পরিবেশ না পাওয়ার কারণেই আজকের যুবক-যুবতিরা হারাম আনন্দ-উল্লাসে জড়িয়ে পড়ছে। উন্মাদ হয়ে গুনাহ-নাফরমানি ইনজয় করছে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।
সুতরাং মাতা-পিতা যদি সত্যিকার অর্থে নিজেদের পরিণত বয়সী সন্তানদের কল্যাণকামী হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে। যথাসময়েই সন্তানদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে ___যৌবনের উত্তাল স্রোতে দুলাল-দুলালিদের হারিয়ে যাওয়ার আগেই।

Tuesday, 12 February 2019

কুরআনের ১০০টি উপদেশবাণী: 100 advices from the Qur'aan

কুরআনের ১০০টি উপদেশবাণী: 100 advices from the Qur'aan

১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২]
২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪]
৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০]
৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪]
৫। কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০]
৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭]
৭। ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮]
৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০]
৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১]
১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০]
১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২]
১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩]
১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭]
১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬]
১৫। প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪]
১৬। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো। [সূরা বাকারা ২:২৭৩]
১৭। সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫]
১৮। যদি ঋণীঅভাবগ্রস্তহয়তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০]
১৯। ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২]
২০। আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]
২১। গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]
২২। সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৫]
২৩। সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬]
২৪। তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩]
২৫। ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪]
২৬। রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯]
২৭। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১]
২৮। পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫]
২৯। মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যসের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭]
৩০। উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে। [সূরা নিসা ৪:৭]
৩১। অনাথদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা ৪১০]
৩২। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩]
৩৩। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯]
৩৪। পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪]
৩৫। অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬]
৩৬। কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭]
৩৭। বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪]
৩৮। মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮]
৩৯। একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২]
৪০। বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না। [সূরা নিসা ৪:১০৫]
৪১। ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫]
৪২। সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। [সূরা মায়িদা ৫:২]
৪৩। সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২]
৪৪। মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ। [সূরা মায়িদা ৫:৩]
৪৫। সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮]
৪৬। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও। [সূরা মায়িদা ৫:৩৮]
৪৭। পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩]
৪৮। মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]
৪৯। জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]
৫০। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮]
৫১। আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়। [সূরা আন’আম ৬:১১৬]
৫২। মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২]
৫৩। অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩]
৫৪। পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১]
৫৫। সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১]
৫৬। অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯]
৫৭। যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না। [সূরা আনফাল ৮:১৫]
৫৮। যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬]
৫৯। পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮]
৬০। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭]
৬১। যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]
৬২। প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]
৬৩। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫]
৬৪। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]
৬৫। পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]
৬৬। অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯]
৬৭। দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১]
৬৮। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩২]
৬৯। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬]
৭০। শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪]
৭১। অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩]
৭২। অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:২৭]
৭৩। যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫]
৭৪। বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮]
৭৫। বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো। [সূরা ফুরকান ২৫:৬৩]
৭৬। এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭]
৭৭। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮]
৭৮। সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯]
৭৯। সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭]
৮০। দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না। [সূরা লোকমান ৩১:১৮]
৮১। কণ্ঠস্বর অবনমিত রেখো। [সূরা লোকমান ৩১:১৯]
৮২। নারীরা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। [সূরা আহ্‌যাব ৩৩:৩৩]
৮৩। আল্লাহ্‌ তাআলা যাবতীয় পাপ মোচন করে দিতে পারেন। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩]
৮৪। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩]
৮৫। ভালো দ্বারা মন্দ প্রতিহত করো। [সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৩৪]
৮৬। যেকোনো বিষয়ে পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নাও। [সূরা শূরা ৪২:৩৮]
৮৭। মানুষের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করো। [সূরা হুজরাত ৪৯:৯]
৮৮। কাউকে পরিহাস করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১১]
৮৯। সন্দেহ থেকে বিরত থেকো। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২]
৯০। পরনিন্দা করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২]
৯১। সবচেয়ে আল্লাহ্‌ভীরু ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মাননীয়। [সূরা হুজরাত ৪৯:১৩]
৯২। অতিথির সম্মান করো। [সূরা যারিয়াত ৫১:২৬]
৯৩। দাতব্যকার্যে অর্থ ব্যয় করো। [সূরা হাদিদ ৫৭:৭]
৯৪। দ্বিনের মধ্যে বৈরাগ্যের কোনো স্থান নেই। [সূরা হাদিদ ৫৭:২৭]
৯৫। জ্ঞানীজনকে আল্লাহ্‌ তাআলা সুউচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। [সূরা মুজাদালাহ্‌ ৫৮:১১]
৯৬। অমুসলিমদের সাথে সদয় ও ন্যায় আচরণ করো। [সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ৬০:৮]
৯৭। লোভ-লালসা থেকে সুরক্ষিত থেকো। [সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬]
৯৮। আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। তিনি মহাক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। [সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২০]
৯৯। ভিক্ষুককে ধমক দিও না। [সূরা যুহা ৯৩:১০]
১০০। অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করো। [সূরা মা’ঊন ১০৭:৩]
পুরুষের জন্য সিল্ক /রেশমী, হলুদ ও লাল কাপড় পড়া নিষেধ কেন?

পুরুষের জন্য সিল্ক /রেশমী, হলুদ ও লাল কাপড় পড়া নিষেধ কেন?

হলুদ,লাল রঙ্গ ও রেশমি পোশাক পুরুষদের জন্য হারাম, বিস্তারিত হাদিস দেখুনঃ ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলোতেই ভীড় কম থাকে না।তবে পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হওয়া দরকার।পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান পায় সিল্কের পাঞ্জাবী।ছোট থেকে বড়, বড় থেকে বুড়ো সব বয়সের পুরুষদের প্রায়ই দেখা যায় সিল্কের পাঞ্জাবী পরতে। কিন্তু আমরা হয়ত জানি বা না জেনে সিল্কের পোষাকের দিকে ঝুকি।কিন্তু পুরুষের জন্য তো সিল্ক হারাম করা হয়েছে।আলী (রাঃ) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন।আমি তা পরিধান করলাম। তার মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহীলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।বুখারিঃ২৬১৪ ইঃফাঃ২৪৩৯ আহমাদঃ ১১৭১ আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূলূল্লাহ (সাঃ) কে দেখেছি, তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দু’টি বস্তু হারাম।’’ আবু দাউদঃ ৪০৫৭, নাসায়িঃ ৫১৪৪, ইবন মাজাহঃ৩৫৯৫ রসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে। সহীহ বুখারীঃ ৫৫৯০ পুরুষদের জন্য হলুদ ও লাল জামা পরার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। লাল ও হলুদ রঙ পুরুষদের জন্য এই কালারের পাঞ্জাবিও এড়িয়ে চলতে হবে। রসুলুল্লাহ( সাঃ) আলি (রাঃ) কে দুইটি হলুদ রঙয়ের কাপড় পরা অবস্থায় দেখলেন। তিনি তখন বলেন, এই রঙ কাফেরদের জন্য, এই রঙের কাপড় পরিধান করো না। মুসলিমঃ ২০৭৭ উমার(রাঃ) বলেন,রসুলুল্লাহ (সাঃ)আমাদেরকে লাল রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ,ইবনে মাজাহঃ ৩৫৯১) তবে শুধু এক কালারের লাল না হয়ে যদি লালের মাঝে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পরা জায়েজ আছে। তবে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকলেও তাকওয়ার খাতিরে লাল রঙ এড়িয়ে চলাই উত্তম।
পুরুষদের সম্পূর্ণ একরঙের লাল ও হলুদ কাপড় পড়া নিষেধ
 আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদেরকে সম্পূর্ণ একরঙের লাল ও হলুদ কাপড় পড়তে নিষেধ করেছেন।
.
🔅উমার রাদিয়াল্লাহু আ'নহু বলেনঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে লাল রঙের পোশাক পড়তে নিষেধ করেছেন।
মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ ৩৫৯১।
.
🔅“এক লোক দুইটা লাল পোশাক পড়া ছিলো আর সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সালাম দিলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের জবাব দিলেন না”।
আবু দাউদ, তিরমিযী। হাদীসটি হাসান সহীহ।
.
তবে অন্য হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, শুধু এক কালারের লাল না হয়ে লালের মাঝে যদি অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পড়া জায়েজ আছে।
.
🔅“রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়েমেনি লাল হুল্লাহ পড়েছেন।”
বুখারী ৫৪০০।
.
উল্লেখ্যঃ তৎকালীন যুগে ইয়েমেনি লাল হুল্লাহর মাঝে কালো স্ট্রাইপ/চেক থাকতো। এ থেকে প্রমানিত হয় যে, লালের মাঝে অন্য রঙের চেক/স্ট্রাইপ থাকলে সেটা পড়া জায়েজ।
ইবনুল কাইয়্যিমঃ যাআদ আল-মাআদ।

 হলুদ হারাম কেনো?
.
🔅রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আলি রাদিয়াল্লাহু আ'নহুকে দুইটি হলুদ রঙয়ের কাপড় পড়া অবস্থায় দেখলেন। তিনি তখন বলেনঃ এই রঙ কাফেরদের জন্য, এই রঙের কাপড় পড়োনা।
মুসলিম ২০৭৭।
.
 নারীরা লাল বা হলুদ পড়তে পারবেন। কিন্তু রঙ্গিন আকর্ষণীয় কোনো পোশাক পড়ে বাইরে যেতে পারবেন না। পোশাকের উপরে বোরখা অথবা চাদর পড়ে বাইরে যে‌তে হ‌বে।
তাই পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে
যে ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি সে জাতির অন্তর্ভূক্ত হবে??

যে ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি সে জাতির অন্তর্ভূক্ত হবে??

যে ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি সে জাতির অন্তর্ভূক্ত হবে??
#সূরা_আল_মায়েদাহ:82 - আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন।
#সূরা_আল_বাক্বারাহ:120 - ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন।
#ইসলাম শান্তি ও ত্যাগের ধর্ম। এতে একজন মানুষ জন্মের পর থেকে কবরে সমাহিত করা পর্যন্ত সকল বিধান, নিয়ম নীতি সবিস্তারে আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে এমন কোন সরু ছিদ্রও রাখেনি যে, সেখানে বিধর্মীদের অনুসরণ করতে হবে। বরং আল্লাহর রাসূল (সাঃ)বলেন- যে জাতি যে জাতিকে অনুকরণ করবে তাদের সাথে তাদের হাশর হবে। অর্থাৎ আমি যদি কোন ফাসেক-ফোজ্জার গোনাহগার, মোনাফেক, অবিশ্বাসী কাউকে ভালোবাসি তাহলে হাশরের দিন তাদের সাথে আমার হাশর হবে। যদি নায়েবে রাসূল (সাঃ) কোন আলেম কে ভালোবাসি তাহলে তার সাথে আমি জান্নাতে যেতে পারবো। আর যদি কোন মোনাফেক, অবিশ্বাসী লোককে ভালোবাসি তাহলে তার সাথে জাহান্নামে যেতে হবে।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্য করবে, সে তাদেরই অর্ন্তভুক্ত। [সুরা মায়েদা : ৫১] অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মোনাফেকের ঠিকানা হবে জাহান্নামের তলদেশে। অথচ মুসলমান হয়ে বিধর্মীকে অনুকরণ করছে।
#যেমন- আমাদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করছি মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেক কেটে।
👉মা দিবস,
👉বাবা দিবস,
👉ভাই দিবস,
👉বোন দিবস
👉আন্ডা দিবস
👉বাংলানববর্ষ দিবস,
👉Happy new year
👉১৪ 💓ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবস,
👉২১ ফেব্রুয়ারি দিবস, আর অনেক..ইত্যাদি
👉৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রতি দিনে কোন না কোন দিবস আছেই।এগুলো ইসলাম ধর্মে নেই।
আলকুরআনের কোন আয়াত বা কোন হাদীস দ্বারা কোন কিছু দিবস পালনের কোনই প্রমাণ পাওয়া যায় না।
#রসূল (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের দিকে মানুষকে আহবান করে!
সে ব্যক্তি জাহান্নামীদের দলভুক্ত!
যদিও সে রোযা পালন করে/নামায আদায় করে এবং ধারণা করে যে সে একজন মুসলিম.!
(আহমদ -১৭০৯ তিরমিযী -২৮৬৩)