Sunday, 28 July 2019

কুরবানীর ইতিহাস

কুরবানীর ইতিহাস

কুরবানীর ইতিহাস:
কুরবানীর ইতিহাস
কুরবানীর ইতিহাস


 আল্লাহ বলেন,
گژوا اسم اللير على ما رزقهم من بهيمة الأنعام د ولكل أمة كعلنا منگا فإلگو إله واحد فله ألوا دو بشر الخبين - (الحج ) -
প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা কুরবানীর বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা যবহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এজন্য যে, তিনি চতুষ্পদ গবাদি পশু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন অনন্তর তােমাদের উপাস্য মাত্র একজন অতএব তাঁর নিকটে তােমরা আত্মসমর্পণ কর এবং আপনি বিনয়ীদের সুসংবাদ প্রদান করুন (হজ্জ ২২/৩৪) আদম (আঃ) -এর দুই পুত্র কাবীল  হাবীল -এর দেওয়া কুরবানী থেকেই কুরবানীর ইতিহাসের গােড়াপত্তন হয়েছে তারপর থেকে বিগত সকল উম্মতের উপরে এটা জারি ছিল তবে সেই সব কুরবানীর নিয়ম-কানুন
, বুখারী, মিশকাত হা/১৪৬০ ছালাত অধ্যায় বাণী অনুচ্ছেদ , মুসলিম, মিশকাত হা/২০৪৪ ছওম অধ্যায়, নফল ছিয়ামঅনুচ্ছেদ

আমাদেরকে জানানাে হয়নি মুসলিম উম্মাহর উপরে যে কুরবানীর নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে, তা মূলতঃ ইব্রাহীম (আঃ) কর্তৃক পুত্র ইসমাঈল (আঃ)কে আল্লাহর রাহে কুরবানী দেওয়ার অনুসরণে সুন্নাতে ইবরাহীমী' হিসাবে চালু হয়েছে যা মুক্বীম  মুসাফির সর্বাবস্থায় পালনীয়রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) মাদানী জীবনে দশ বছর নিয়মিত কুরবানী করেছেন ইবরাহীমী কুরবানীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন,
اى آرى في المنام أي أحلك فانظر ماذا ترط فلما بلغ معه السعي قال يا قال يا أبي افعل ما تؤمر ستجدين إن شاء الله من الصابري - فلما أسلما و
اليك خږي تله الجبين - و ناداه أن يا إبراهيم - قد صنفت الرؤيا ج إلا المخييين - إن هذا هو البلاء المميي - وفديناه بذبح عظيم- و تنا عليه في
-(১০৯-১০২ ৩৬Lal) -১৮ :১৬ --> যখন সে (ইসমাঈল) তার পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত ', তখন তিনি (ইবরাহীম) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তােমাকে যবহ করছি অতএব বল, তােমার মতামত কি? ছেলে বলল, হে আব্বা! আপনাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিপালন করুন ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন' (ছাফফাত ৩৭/১০২) অতঃপর যখন পিতা  পুত্র আত্মসমর্পণ করল এবং পিতা পুত্রকে উপুড় করে ফেলল(১০৩), তখন আমরা তাকে ডাক দিলাম, হে ইবরাহীম (১০৪)! নিশ্চয়ই তুমি তােমার স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেছ আমরা এমনিভাবে সকর্মশীল বান্দাদের পুরস্কৃত করে থাকি (১০৫) “নিশ্চয়ই এটি একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা' (১০৬) আর আমরা তার (অর্থাৎ ইসমাঈলের) পরিবর্তে যবহ করার জন্য দিলাম একটি মহান কুরবানী' (১০৭) এবং আমরা এটিকে (অর্থাৎ কুরবানীর  প্রথাটিকে) পরবর্তীদেরকে মধ্যে রেখে দিলাম" (১০৮) ইবরাহীমের উপরে শান্তি বর্ষিত হােক(১০৯)!
১০. শাওকানী, নায়লুল আওত্বার /২২৮ পৃঃ ১১. তাফসীরে কুরতুবী (বৈরুত: ১৪০৫/১৯৮৫) ১৫/১০৯ পৃঃ নায়ল /২৫৫পৃঃ ১২. তিরমিযী, মিশকাত হা/১৪৭৫ ছালাত অধ্যায়, কুরবানীঅনুচ্ছেদ

হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ৮৬ বৎসর বয়সে ইসমাঈল বিবি হাজেরার গর্ভে এবং ৯৯ বছর বয়সে ইসহাক্ব বিবি সারাহ্র গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন ইবরাহীম (আঃ) সর্বমােট ২০০ বছর বেঁচে ছিলেন ঘটনা : ফারা বলেন, যবহের সময় ইসমাঈলের বয়স ছিল ১৩ বছর ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন,  সময় তিনি কেবল সাবালকত্বে উপনীত হয়েছিলেন এমন সময় পিতা ইবরাহীম স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সন্তান নয়নের পুত্তলি ইসমাঈলকে কুরবানী করছেন নবীদের স্বপ্ন ‘অহি' হয়ে থাকে তাদের চক্ষু মুদিত থাকলেও অন্তরচক্ষু খােলা থাকে ইবরাহীম (আঃ) একই স্বপ্ন পরপর তিনরাত্রি দেখেন প্রথম রাতে তিনি স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে উঠে ভাবতে থাকেন, কি করবেন এজন্য প্রথম রাতকে (৮ই যিলহাজ্জ) ইয়াউমুত তারবিয়াহ (9; 9) বা ‘স্বপ্ন দেখানাের দিন' বলা হয় দ্বিতীয় রাতে পুনরায় একই স্বপ্ন দেখার পর তিনি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারেন যে, এটা আল্লাহ্র পক্ষ হতে নির্দেশ হয়েছে এজন্য  দিনটি (৯ই যিলহাজ্জ) ইয়াউমু আরাফা' (64) বা নিশ্চিত হওয়ার দিন' বলা হয় তৃতীয় দিনে পুনরায় একই স্বপ্ন দেখায় তিনি ছেলেকে কুরবানী করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন এজন্য  দিনটিকে (১০ই যিলহাজ্জ) ইয়াউমুন নাহর(>e) বা কুরবানীর দিনবলা হয়  এই সময় ইবরাহীম (আঃ) শয়তানকে তিন স্থানে তিনবার সাতটি করে পাথরের কংকর ছুঁড়ে মারেন উক্ত সুন্নাত অনুসরণে উম্মতে মুহাম্মাদীও হজ্জের সময় তিন জামরায় তিনবার শয়তানের বিরুদ্ধে কংকর নিক্ষেপ করে থাকে এবং প্রতিবারে আল্লাহর বড়ত্ব ঘােষণা করে আল্লাহু আকবার' বলে
থাকে১৭
১৩. তাফসীরে ইবনে কাছীর /১৬; মুওয়াত্ত্বা, তাফসীরে কুরতুবী /৯৮-৯৯ পৃঃ ১৪, তাফসীরে কুরতুবী ১৫/৯৯ পৃঃ ১৫. তাফসীরে কুরতুবী ১৫/১০২ পৃঃ ১৬. তাফসীরে কুরতুবী ১৫/১০৬ পৃঃ ১৭. মুত্তাফাক আলাইহ, মুওয়াত্ত্বা মালেক, মিশকাত হা/২৬২১, ২৬২৬ হজ্জ অধ্যায়, কংকর
নিক্ষেপ অনুচ্ছেদ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে ছহীহ সনদে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবরাহীম (আঃ) ছেলেকে কুরবানীর প্রস্তুতি নিলেন এবং তাকে মাটিতে উপুড় করে ফেললেন এমন সময় পিছন থেকে আওয়ায এলাে ( 35 152 ) হে ইবরাহীম! তুমি স্বপ্ন সার্থক করেছ (ছাফফাত ১০৫) ইবরাহীম পিছন ফিরে দেখেন যে, একটি সুন্দর শিংওয়ালা  চোখওয়ালা সাদা দুম্বা ( 3s 2 :) দাঁড়িয়ে আছে অতঃপর তিনি সেটি মিনা প্রান্তরে (ছাবীর' টীলার পাদদেশে) কুরবানী করেন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এজন্য আমরা কুরবানীর সময় অনুরূপ ছাগল-দুম্বা খুঁজে থাকিতিনি বলেন,  দুটি ছিল হাবীলের কুরবানী, যা জান্নাতে ছিল, যাকে আল্লাহ ইসমাঈলের ফিদ্ইয়া হিসাবে পাঠিয়েছিলেন ইবরাহীম উক্ত দুটি ছেলের ফিদ্ইয়া হিসাবে কুরবানী করলেন  ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন হে পুত্র! আজই তােমাকে আমার জন্য দান করা হল নিঃসন্দেহে এখানে মূল উদ্দেশ্য যবহ ছিলনা, বরং উদ্দেশ্য ছিল পিতাপুত্রের আনুগত্য  তাক্বওয়ার পরীক্ষা নেওয়া সে পরীক্ষায় উভয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিতার পূর্ণ প্রস্তুতি এবং পুত্রের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি  আনুগত্যের মাধ্যমে ইমাম কুরতুবী উপরােক্ত ১০৭ নং আয়াত  উল্লেখ করে বলেন,  আয়াতটি দলীল   বিষয়ে যে, উট  গরুর চেয়ে ছাগল কুরবানী করা উত্তম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজেও শিংওয়ালা দুটো করে খাসি' কুরবানী দিতেন অনেক বিদ্বান বলেছেন, যদি এর চাইতে উত্তম কিছু থাকত, তবে আল্লাহ তাই দিয়ে ইসমাঈলের ফিদ্ইয়া দিতেন তবে উট, গরু, ভেড়া বা ছাগল দ্বারা কুরবানীর ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীছ রয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) হজ্জের সময় গরু  উট কুরবানী করেছেন
প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা কুরবানীর বিধান রেখেছিলামযাতে তারা যবহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এজন্য যেতিনি চতুষ্পদ গবাদি পশু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন অনন্তর তােমাদের উপাস্য মাত্র একজন অতএব তাঁর নিকটে তােমরা আত্মসমর্পণ কর এবং আপনি বিনয়ীদের সুসংবাদ প্রদান করুন (হজ্জ ২২/৩৪) আদম (আঃ) -এর দুই পুত্র কাবীল  হাবীল -এর দেওয়া কুরবানী থেকেই কুরবানীর ইতিহাসের গােড়াপত্তন হয়েছে তারপর থেকে বিগত সকল উম্মতের উপরে এটা জারি ছিল তবে সেই সব কুরবানীর নিয়ম-কানুন
বুখারীমিশকাত হা/১৪৬০ ছালাত অধ্যায় বাণী অনুচ্ছেদ মুসলিমমিশকাত হা/২০৪৪ ছওম অধ্যায়নফল ছিয়াম” অনুচ্ছেদ

আমাদেরকে জানানাে হয়নি মুসলিম উম্মাহর উপরে যে কুরবানীর নিয়ম নির্ধারিত হয়েছেতা মূলতঃ ইব্রাহীম (আঃকর্তৃক পুত্র ইসমাঈল (আঃ)কে আল্লাহর রাহে কুরবানী দেওয়ার অনুসরণে সুন্নাতে ইবরাহীমীহিসাবে চালু হয়েছে যা মুক্বীম  মুসাফির সর্বাবস্থায় পালনীয়” রাসুলুল্লাহ (ছাঃমাদানী জীবনে দশ বছর নিয়মিত কুরবানী করেছেন ইবরাহীমী কুরবানীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন,
اى آرى في المنام أي أحلك فانظر ماذا ترط فلما بلغ معه السعي قال يا قال يا أبي افعل ما تؤمر ستجدين إن شاء الله من الصابري - فلما أسلما و
اليك خږي تله الجبين - و ناداه أن يا إبراهيم - قد صنفت الرؤيا ج إلا المخييين - إن هذا هو البلاء المميي - وفديناه بذبح عظيمو تنا عليه في

১৮, মুসনাদে আহমাদ হা/২৭০৭, তাহ: আহমাদ শাকি /২৯৭ পৃঃ সনদ ছহীহ,
তাহকী তাফসীরে ইবনে কাছীর (কায়রাে ছাপাঃ দারুল হাদীছ ২০০২) /২৮ পৃঃ ১৯. তাফসীরে ইবনে কাছীর /১৭ পৃঃ; , তাহক্বী, সনদ ছহীহ /২৮ পৃঃ ২০, তাফসীরে কুরতুবী ১৫/১০৭ পৃঃ ২১. তাফসীরে কুরতুবী ১৫/১০৭ পৃঃ