.
মুসলমানদের চলমান দুরাবস্থার দিকে তাকালে অন্য দশজনের মত শোকে-হতাশায় আমাদের অন্তরটাও পাথর হয়ে যায়! সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, বার্মা কিংবা কাশ্মীরের লক্ষ মুসলিমের যুলম -নির্যাতন, পৈশাচিক নৃশংসতা, মানবতাবাদীদের কুৎসিত প্রদর্শনী স্বচক্ষে দেখার পর যার ভেতরে সামান্যতম বিবেকবোধ রয়েছে , তার পক্ষেও স্বাভাবিক থাকা সম্ভব নয়।
.
আজকে মুসলিম উম্মাহ ডানা ভাঙ্গার পাখির মত অসহায়, আমাদের উপর কাফিররা কেন এত চড়াও হচ্ছে সেব্যাপারে আমরা ভ্রুক্ষেপহীন। কার্যত আমরা এই দুনিয়াতে শরনার্থী হয়ে বেঁচে আছি। আর শরনার্থীই বা হবোনা কেন!? চিন্তা করুনতো - অধিকাংশ যুবক-যুবতীই কোনো না কোনোভাবে নেশাগ্রস্থ! নাচ-গান, খেল-তামাশা, ক্রিকেট -ফুটবল, যেনা - ব্যাবিচার, মদ-জুয়া, বেনামাযী - বেদ্বীন, সুদ - ঘুষ, শিরিক-কুফরসহ এমন কোনো পাপ নেই যা আমাদের দ্বারা হচ্ছেনা!
.
আমরা দাবীতে মুসলিম, রাইট !? তাহলে বলুনতো, আল্লাহর প্রতি আমাদের ভালবাসা কতটুকু? তাঁর দ্বীনের প্রতি আমাদের ভালবাসা কতটুকু? প্রাণাধিক প্রিয়নবী মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ ﷺ- কতো কষ্ট করে এই ইসলাম আমাদের জন্য রেখে গেছেন, আমাদের জন্য কেঁদেছেন , সেইদিনও কাঁদবেন যেদিন আমাদের বিচার কায়েম হবে, সেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আমাদের ভালবাসা কতটুকু ? তাঁর আদর্শ আমরা কতটুকু অনুসরণ করছি!? বলুন কতটুকু? ঐ শুনুন মহান আল্লাহর বাণী - “নিশ্চয়ই আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের ভিতরের অবস্থা পরিবর্তন করে।”
--- [ সুরাহ আর রাদ, আয়াত : ১১ ]
.
হে প্রিয় ভাই! বিশ্বাস করুন, আমরা যখনই আল্লাহর প্রদত্ত দ্বীন থেকে সরে গিয়ে তার নাফরমানীতে লিপ্ত হয়েছি, ঠিক তখনই মহান আল্লাহ আমাদেরকে লাঞ্ছিত, অপমানিত করেছেন। অত:পর কাফিরদের "গোলামীর মালা" গলায় লাগিয়ে দিয়েছেন। একারণেই মুসলিমদের উপর বৃষ্টির মতো একের পর এক ফিতনাহ বর্ষিত হচ্ছে দেখে এখন আর আগের মত আশ্চর্য হইনা।
.
প্রাণাধিক প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি মহামুল্যবান উপদেশ দিয়েই নিবন্ধের ইতি টানছি!
একদা আল্লাহর রাসূল ﷺ- আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু-আনহুকে ডেকে বলেন : হে আব্দুল্লাহ! আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা শিক্ষা দেব না,
যার মাধ্যমে তুমি উপকৃত হবে!?
আব্দুল্লাহ বললেন, ‘নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসূল!’
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ- বললেন ─
"হে বৎস, তুমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার (বিধি-নিষেধ) রক্ষা করবে, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি তাঁর (আল্লাহর বিধি-বিধানের) প্রতি লক্ষ রাখবে, তাহলে তাকে কাছে পাবে। সুখের সময় আল্লাহকে চেনো, তিনি দুঃখের সময় তোমাকে চিনবেন। যদি কোনো কিছু চাইতে হয়, তবে আল্লাহর কাছে চাও। আর যদি সাহায্য প্রার্থনা করতে হয় তবে আল্লাহর কাছেই করো।
ঘটিতব্য বিষয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। যদি লোকেরা চেষ্টা করে তোমাকে এমন বিষয়ে উপকৃত করতে, যা আল্লাহ তোমার জন্য লিপিবদ্ধ করেননি, তবে তারা কখনোই তা পারবে না। আর যদি লোকেরা তোমার এমন কোনো ক্ষতি করতে চেষ্টা করে, যা আল্লাহ তোমার ভাগ্যে লিখে রাখেননি, তাহলেও তারা তা কখনোই করতে পারবে না। যদি সততার সাথে সুদৃঢ়ভাবে আল্লাহর জন্য আমল করতে সক্ষম হও তবে তা করো। আর যদি সক্ষম না হও তবে যে বিষয়টি তোমার কষ্টকর লাগছে সে বিষয়ে (তোমার জন্য) প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। জেনে রাখো, সবরের সাথেই রয়েছে (আল্লাহ-প্রদত্ত) সাহায্য। বিপদের সাথেই রয়েছে বিপদমুক্তি। দুঃখের পরেই রয়েছে সুখ।"
---- [ মুস্তাদরাক্ব হাকেম : ৫/৫৪১ ]
.
আমাদের সকলেরই একথা জেনে রাখা আবশ্যক যে, উপরিউক্ত ফিতনাহ থেকে মুক্তির কোন পথ নেই, একমাত্র আল্লাহর কিতাব তথা ক্বুরআনুল কারীম ও
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর দিকে ফিরে আসা ছাড়া।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদেরকে খাঁটি মুসলিম হয়ে, কাফিরদের উপর বিজয়ী হওয়ার তাউফীক্ব দান করুন, আমীন।
.
▪সংকলক :
আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী,
আখতার বিন আমীর।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
Categories:
islamic video

0 comments: