প্রিয় হবু শ্বশুরআব্বা,
আপনি নিশ্চয় ই জানেন, আমি একজন প্রবাসী এবং মধ্যবৃত্ত ঘরের সন্তান!"বিয়ে "করার জন্য শারিরিক ও মানসিক প্রস্তুতি থাকলেও আর্থিক দিক কিছুটা দূর্বল!
তাই বলে একথা ভাববেন না যে, আপনার মেয়ের শাড়ি, চুড়ি সাবান, লিপিস্টিক কেনার সামর্থ্য আমার নাই!
বিলাসীতা না করতে পারলেও আপনার কিউট মাইয়াডা একটা স্বচ্ছ আয়নার মত "মন" পাবে সে নিশ্চয়তা দিতে পারি!
যেহেতু আমার বয়স টা আপনিও পার করে এসেছেন,
তাই যুবকদের বয়সকেন্দ্রিক চাহিদাগুলো আপনার অজানা থাকার কথা নয়!
স্ত্রী আপনারও আছে, আবার স্ত্রী ছাড়া একটা লম্বা সময় আপনিও পার করে এসেছেন সুতরাং আমার সমস্যা গুলো আপনার চাইতে কে ই বা ভাল বুঝবে(!)
তাই লোক লজ্জার মাথা খেয়ে আপনার উদ্দেশ্যে
এই খোলা চিঠিখানা লিখতে বাধ্য হুলাম.....
প্রিয় হবু শ্বশুরআব্বা,
আপনার কাছে অনুরোধ দেনমোহর আমার সাধ্যের মধ্যেই ধার্য করবেন! লোক দেখানো কোন দেনমোহর ধার্য করবেন না, যা পূরণ করতে আমার আন্ডারওয়ার পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়! আমি আপনার মেয়েকে
"বউ" হিসেবে চাচ্ছি কিন্তু তাই বলে ফকির হতে চাচ্ছি না। কারন, দেনমোহর আল্লাহ্তালা চাইলে বিয়ের রাতেই পরিশোধ করে দিবো। আপনি আমার হবু শাশুড়ির সাথে দূর্নীতি করলেও আমি আপনার মেয়ের সাথে অন্তত এই টাইপের কিছু করতে চাচ্ছিনা!
"ওগো আমার ময়না পাখী, দেনমোহরের অর্থ ক্ষমা করে দাও " এ জাতীয় কিছু বলার কোন ইচ্ছে আমার নাই!
ঠিক আছে আংকেল ?
ও থুক্কু (!) ঠিক আছে শশুর [হবু] ?
প্রিয় হবু শ্বশুরআব্বা,
বিয়েতে কোন ধরনের আয়োজন করতে পারবো না! নিজের টাকা খরচ করে ভ্যাড়ার পাল দাওয়াত করে খাওয়ানো আমার পক্ষে সম্ভব না! সাধারন সামাজিকতা রক্ষার্থে যাদের- যাদের বলা প্রয়োজন, তাদের অবশ্যই ডাকবো। এছাড়া, গায়ে হলুদ, বউ ভাত ইত্যাদি আজাইরা কোন আয়োজন করতে পারবো না।
যেহেতু আমি মধ্যবৃত্ত ঘরের সন্তান তাই ৫/৭ ভরি স্বর্ণ দেওয়া আমার পক্ষে সম্বব নয়! হয়তো ২/৩ ভরিও দেয়ার সামর্থ্য আমার নাই তারপরেও চেষ্টা করব যতটুকু দেওয়া যায়! তাই , এই রকম কোন আশা বা শর্ত রাখতে পারবেন না। আপনি চাইলে আপনার মেয়েকে গহনা ছাড়াই আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন, আমার কোন আপত্তি নাই। জীবন যাপন আপনার মেয়ের সাথে করবো, স্বর্ণের সাথে নয়! তাই, আমার সাধ্যে থাকলে দিমু নইলে না, আর আপনার কাছেও চাচ্ছি না।
প্রিয় হবু শ্বশুরআব্বা,
আমার নামে কোন ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ নাই। এর মানে আমার কাছে কোন টাকা নাই। আমার সকল কিছু বর্তমানে আমার মা/বাবার কাছে। আশা করি ছেলের অর্থ সম্পদ কি আছে সেটা যাচাই করতে যাবেন না। "ছেলেরা স্বর্ণের আংটি "সেটা বাকা হলেও মুল্যবান এই সুত্র খানা মাথায় রাখলেই হবে।
আগেই বলে রাখি, আপনার মেয়ে কোন ধরনের চাকরী করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবে না। পূর্বে থেকেই যদি চাকরী করে, তবে তাকে সেটাও ছাড়তে হবে।
যদি পর্দা লংগিত না হয় এবং আমি যদি সেটা তার জন্য উপযুক্ত মনে করি সেক্ষেত্রে টুকটাক শিক্ষকতা, চিকিৎসক বা কোন জনসেবা মূলক কাজ হলে সেটা বিবেচনাধীন থাকবে।!
তবে, "আমি টাহা [টাকা] কামাই করি" এই ভাবের ঠেলায় যদি পরিবারে কোন রকম ভ্যাজাল করে, যা পরিবারের ঐক্য, সুখ-শান্তি বিনষ্ট হয়, তবে আমি শরিয়াহ সম্মত পন্থায় তাকে পুনরায় আপনার বাড়িয়ে পাঠিয়ে দিবো!
মেয়েকে অবশ্যই পর্দা করে চলতে হবে! এই পর্দা কোন জানালার পর্দা না, যা আজ কাল'কার মেয়েরা করে থাকে! এমন পোশাক পড়তে হবে, যেটাকে শরিয়তে পর্দা বলে।
মেয়েকে নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে এবং সাধ্যের মধ্যে সকল ইবাদত 'যা আল্লাহ্তালা হুকুম করছেন সেই গুলো পালন করতে হবে। এইটা যেন আমাকে বলে,বলে পড়াতে বা করাতে না হয়। বিয়ের আগেই মেয়ের মাথায় এইটা ঢুকাইয়া দিয়েন! নইলে বিয়ের পরে এই সব নিয়ে টালবাহনা করলে বা তর্ক করলে আমি শরিয়ত সম্মত পন্থায় সিদ্ধান্ত নিব। এক ই সিদ্বান্ত নেওয়ার অধিকার আপনার মেয়েরও রয়েছে!
রাগ উঠলে যেন কোনরকম গালাগালি না করে! আমিও গ্যারান্টি দিতেছি, কোনদিন তাকে গালি বা বাজেকথা এবং মারধর জাতীয় কিছু করবো না। এই গুলা আমার লিস্টে কোন দিন ছিলই না, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না। কারন, আমি জানি, পরের মেয়েকে বিয়ে করে আনছি মারধর করার জন্য নয়, ঘর করার জন্য, আমার আবেগ শেয়ার করার জন্য।
নিশ্চয়ই একই উদ্দেশ্যে আপনিও আমার হবু শ্বাশুড়িকে বিবাহ করেছিলেন!
প্রিয় হবু শ্বশুরআব্বা,
আপনার কিউট মাইডারে অবশ্যই, অবশ্যই রান্না জানতে হবে। রান্না না জানলে সমসা নেই।আমি শিখিয়ে দিবো।।। আপনার মেয়ের যদি রান্না করা অসুবিধা মনে করে শিখতেও না চায় তাহলে, যেদিন আপনার বাড়িতে প্রস্তাব দিবো, সেদিনই আমার প্রস্তাব নাকচ করে দিবেন প্লিজ। আমার বাড়িতে কোন চাকরানি নাই, যে আপনার মেয়েকে রান্না করে খাওয়াবে!
আমার মা দিন দিন বৃদ্ধ হচ্ছে। তাই যতটা সম্ভব তার সেবা করতে হবে আপনার মেয়েকেই, যদিও এটা তার জন্য ফরজ নয় তবে এটা আমার অবদার কেননা আমার কোন বোন নেই এবং আমিই আমার মায়ের বড় সন্তান!
বৃদ্ধ মানুষ একটু ভুল বেশী করে, কারন এই সময় তাদের মস্তিস্ক দুর্বল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কোনরকম রাগ, ক্ষোভ না দেখিয়ে ধৈর্য ধরে তার ভুল এড়িয়ে তার সেবা করতে হবে। আমার বাড়ি তে আপনার মেয়ের কাজ হল- রান্না করবে, ঘর বাড়ি গুছাইয়া রাখবে, খাইবে, ঘুমাইবে, আমার মায়ের সেবা করবো ইত্যাদি। এছাড়া আমার বাড়িতে আপনার মেয়ের আর কোন কাজ নাই।
প্রিয় আংকেল! থুক্ক স্বশুরআব্বা!
আমার উপরোক্ত কথাগুলোকে আপনি বিয়ের পূর্বশর্ত
অথবা চাহিদা হিসেবে নিতে পারেন!
আপনি সামাজদার মানুষ! নিশ্চয় ই জানেন- দুনিয়ার জমিনে আল্লাহ্তালা এমন কোন সুন্দর ফুল আজও ফোটায়নি, যা নারীর চেয়ে সুন্দর! সুতরাং
কক্সবাজারে "হানিমুন" করে আসা হবু শ্বশুরগণ
আমার ফিলিংসটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়!
ইতি,
আপনার হবু জামাতা!
,,,,,কপি পোষ্ট,,,,,
Categories:
islamic video

0 comments: