আপনাদের বোঝার সুবিধারথে এই বইয়ের কিছু কিছু অংশবিশেষ নিচে দেয়া হল।
টাইপিং মিস্টেক হতে পারে তার জন্যে দুঃখিত তবে পি ডি এফ কপিতে নির্ভুল পাবেন আসা করি ইনশাআল্লাহ্
এই বইটি প্রচারে কারো আপত্তি থাকলে আমাদের ফেছবুক পেজে জানানোর অনুরোধ রইল
একটু পরে দেখুন
কম্পিউটারের প্রাক প্রসঙ্গ বিজ্ঞানীদের বদ্ধমূল ধারণা মতে, যিশু খ্রিস্টের জনের ৩,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন ব্যাবিলীয়ানরা বিভিন্ন রেকর্ড সংক্ষণের জন্য ক্লে ট্যাবলেট ব্যবহার করতাে। হিসাব নিকাশের জন্য গণনার কাজে মানুষ নিজের হাতের আঙুল ব্যবহার করেছে । নুড়ি, ছােট ছােট কাঠি, দড়ির গিঁট ইত্যাদি ব্যবহার করে ঠিক রেখেছে হিসাব-নিকাশ। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ বছর আগে মানুষ এ্যাবাকাস যন্ত্রের ব্যবহার করে। বলা যায় এটাই প্রথম সংখ্যাভিত্তিক বা ডিজিটাল গণনা যন্ত্র। চীন দেশে প্রথম এ্যাবাকাস যন্ত্র আবিষ্কার হয়। জাপানে এ যন্ত্রের নাম সরােজন'। মুলত এ্যাবাকাস হলাে আয়তাকার একটা কাঠামাে। এর মধ্যে কতগুলাে তার আড়াআড়ি বসানাে থাকতাে। প্রতিটি তার আবার দুটো অংশে ভাগ করা। উপরের অংশে দুটো করে আর নিচের অংশে পাচটা করে পুঁতি থাকতাে। উপরের প্রত্যেকটি পুঁতির মান ৫ আর নিচের প্রত্যেকটি পুঁতির মান ১। প্রতিটি তার আবার একক, দশক, শতক, হাজার বােঝায় । গণনা কাজে ঠিক সংখ্যার পুঁতি উপরের দিকে ঠেলে দিতে হতাে। ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি গণিত বিশারদ প্যাসকেল সহজে গণনা করার জন্য ‘প্যাসকেলাইন' নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। ধারণা করা হয়, এটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম ক্যালকুলেটর । এরপর ২০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ১৮৩৩-৩৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ যে ধারণা দেন, আধুনিক কম্পিউটার সে অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়। তাই চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং আধুনিক কম্পিউটারের গঠন কী রকম হওয়া উচিত, কেন এ রকম হওয়া উচিত, এটির কর্ম ক্ষমতা কত দূর এবং কোথায় এর দুর্বলতা তার একটি সার্থক মডেল তিনি বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরেন। আজকের কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের মাঝে টিউরিং-এর মেশিন (Turing Machine) নামে সমধিক প্রচলিত। অ্যালান টিউরিং-এর কম্পিউটার মডেলের বাস্তব রূপ দিলেন ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী কনরাড জুস। তিনি আবিষ্কার করেন জেড-ওয়ান (21) নামক প্রথম প্রােগ্রাম চালিত যান্ত্রিক কম্পিউটার। সে বছর প্রথম ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটারের আদি রূপ তৈরি হয় ড. ভিনসেন্ট অ্যাটাফ এবং ক্লিফোর্ড বেরি নামক দুই মার্কিন বিজ্ঞানী কর্তৃক । তাদের নামানুসারে ঐ কম্পিউটারের নাম দেওয়া হয় অ্যাটাসফ বেরি কম্পিউটার সংক্ষেপে (ABC)। ১৯৪০-৪১ খ্রিস্টাব্দে জন মসিল নামক এক বিজ্ঞানী (ABC)-কে আরাে উন্নত করার জন্য আমেরিকার সামরিক বিভাগের ব্যালিস্টিক রিসার্চ ল্যাবরেটরিত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আবিষ্কার করলেন ‘এনিয়াক’ {ENIAC) নামক কম্পিউটার যার ওজন ছিল ৩০টন এবং আকৃতি ছিল ৩টি বিশাল ঘর জুড়ে । এনিয়াক-ই ছিল পৃথিবীর প্রথম পুর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক কম্পিউটার। আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে। আর কম্পিউটারের ব্যাপক প্রচলন আরম্ভ হয় ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের পর প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কম্পিউটার বাজারজাত করা হয়। প্রথম যুগের কম্পিউটার ছিল বিশাল বড়। সেগুলাে যিনি আবিষ্কার করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ তা চালাতেই পারতাে না। এবাকাস আবিষ্কারের বহু
১০
পরে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ৭০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে আবিষ্কৃত হয় ঘড়ি। সেই ঘড়ি কিন্তু নিজে নিজে চলতে পারতাে না। তাকে চালানাের জন্য সহযােগিতার দরকার হতাে। কিন্তু মানুষের আশা যন্ত্র যেন নিজে নিজে চলতে সক্ষম হয়। ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী প্যাসকল আবিষ্কার করেন যােগ বিয়ােগ করার একটি যন্ত্র । পাসকলের পিতা ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী--- তাকে কর আদায়ের হিসাব রাখতে হতাে। ওই হিসাব করার ব্যাপারটি কী যে ঝামেলার এবং কষ্টের! বাবাকে ঝামেলামুক্ত করতে প্যাসকল নামলেন গবেষণায়। অবশেষে তিনি আবিষ্কার করেন যােগ বিয়ােগের যন্ত্র। তিনি তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটির নাম দিলেন ‘প্যাসকালিন'। যােগ বিয়ােগ ছাড়াও আরাে অন্যান্য হিসাব করা যায় এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন জার্মান বিজ্ঞানী লাইবনিৎজ। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার আবিষ্কারের একশাে বছর আগে কম্পিউটারের মূল সূত্র বর্ণনা করেন। তাই তাকে বলা হয় কম্পিউটারের জনক। তিনি বললেন, যন্ত্রের মাধ্যমে জটিল অংক সহজে করা সম্ভব। তিনি ১৮৩৩ থেকে ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করে আবিষ্কার করলেন এনালাইটিক্যাল মেশিন। এটিকেই পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার বলা যায় । তার এ কম্পিউটারের ছিল তিনটি অংশ। যথা : ১. স্টোর ও বাণ্ডার, ২. মিল বা কারখানা ও ৩. সিকোয়েন্সিয়াল মেকানিজম বা পর্যায়ক্রমিক যান্ত্রিক কাজ। তাছাড়া ব্যাবেজের যন্ত্রে ছিল স্মৃতি। ১০০টি সংখ্যা এতে জমা থাকতাে। এর ১০০ বছর পর হাওয়ার্ড এইকেন যে আধুনিক কম্পিউটার তৈরি করেন তারও ছিল তিনটি উপাদান। যথা : ১. ম্যাগনেটিক কোর, ২, রেজিস্টার ও ৩, প্রােগ্রাম। তিনি এটি করেছিলেন ব্যাবেজকে অনুসরণ করে
হার্ডওয়্যার পরিচয় একটি কম্পিউটারের যা দৃশ্যমান অর্থাৎ দেখা যায় এরকম যন্ত্র ও যন্ত্রাংশই হার্ডওয়্যার। আর দেখা যায় না অথচ অন্তরালে থেকে কম্পিউটারকে চালায় তাই সফটওয়্যার। একটা কী-বাের্ড, মনিটর, সিস্টেম ইউনিট ন্যূনতম এই কয়টি হার্ডওয়্যার সামগ্রী যুক্ত করে কম্পিউটার থেকে আমরা কাজ পেতে পারি। কম্পিউটারকে মাল্টি পারপাজে ব্যবহার করতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযােজন করতে হয়। এ কারণে শুধু প্রসেসর ইউনিটকে কম্পিউটার বললে অন্যান্য হার্ডওয়্যারগুলােকে ‘পেরিফেরাল’ হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। যেসব হার্ডওয়ারের সমন্বয়ে কম্পিউটারের সিস্টেম তৈরি হয়, সেগুলাের প্রকৃতি অনুসারে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১. ইনপুট হার্ডওয়্যার, ২. প্রসেসিং হার্ডওয়্যার, ৩. স্টোরেজ হার্ডওয়্যার ৪. আউটপুট হার্ডওয়্যার ও ৫. কমিউনিকেশন বা যােগাযােগের হার্ডওয়্যার।
ইনপুট হার্ডওয়্যার। Input Hardware বলা যেতে পারে ময়দার মিলে গম নিয়ে গেলে তা প্রসেসিং-এর মাধ্যমে ময়দায় রূপান্তরিত করা হয়। এখানে গম হলাে ‘ইনপুট বা উপকরণ । আর ময়দা হলাে
আউটপুট'। গম থেকে ময়দা হতে যে প্রক্রিয়ার প্রয়ােজন তা করে ফ্লাওয়ার মিল। একইভাবে কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াকরণের কাজ কম্পিউটার করবে। তবে আমরা যা করতে চাই প্রথমে তা ইনপুটের মাধ্যমে কম্পিউটারকে জানাতে হবে। তবেই কম্পিউটার গাধার মতাে সেই কাজটি করে যাবে। কিন্তু কম্পিউটার তাে আর আমাদের ভাষা বােঝে না। তার রয়েছে যান্ত্রিক ভাষা ।
Categories:
bangla ebook
ebook


0 comments: